


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ধসে চাপা পড়ল আস্ত গ্রাম! পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে বৃষ্টির জলের সঙ্গে প্রবল বেগে নেমে আসে পলি, নুড়ি ও পাথর। ফলে গ্রামের কোনো বাড়ি ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে, কোনো বাড়ির আবার অর্ধেকের বেশি অংশ চাপা পড়েছে পলিতে। শুক্রবার এমনই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে। ধসের সঙ্গে ছিল তুষারপাতও। দুর্যোগের জোড়া ফলায় বিপর্যস্ত সিকিম। এদিকে, বৃষ্টির ফলে ধসে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা। দার্জিলিংয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়াল ভেঙে আহত হয়েছেন একজন। ১০ এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কসহ পাহাড়ের বেশ কিছু রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দার্জিলিংয়ে টয় ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ রাখতে হয়। তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ছে দ্রুত।
বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় শুক্রবার ফের ধস নামে সিকিমের রিম্বি গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক বাড়িঘর। সিকিম প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগস্ট মাসে প্রথম ধস বিধ্বস্ত হয় ওই গ্রাম। এরপর সেখানে আরও কয়েকবার ধস নামে। এই অবস্থায় গত রবিবার বিপজ্জনক ওই গ্রাম থেকে ৩৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়। এদিন ফের ধসের কবলে পড়ে সেই গ্রাম। রাস্তার উপর নেমে এসেছে পলি, বোল্ডার। অধিকাংশ বাড়ির অর্ধেকটাই কাদায় ডুবে গিয়েছে। শুধু ধস নয়, সিকিমে তুষারপাতও হয়েছে। ছাঙ্গু, জিরো পয়েন্ট, ইউমথাংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে। বহু রাস্তা বন্ধ। মাঙ্গন জেলায় সাতটি, নামচিতে দু’টি, গ্যালসিংয়ে তিনটি রাস্তা, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল ও বরদাং বন্ধ। সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। রাস্তাগুলি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
দার্জিলিংয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রংলিরংলিয়ট ব্লকের তাকদায় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়ালের একাংশ ধসে গিয়ে নির্মল তামাং নামে এক বৃদ্ধ জখম হয়েছেন। ওই ব্লকেরই গ্লেনবার্ন-সিমবং রাস্তা, শিবখোলার রাস্তা, কার্শিয়াংয়ের মহানদী এলাকায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, শ্বেতী ঝোরার কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। কালিম্পংয়ের লাভারবোটে গাছ পড়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুধিয়ায় বালাসন নদীর হিউম পাইপের সেতু ফের ভেসে গিয়েছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘ধসে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র অন্যত্র সরানো হবে।’ পার্বত্য ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী বিশাল লামা বলেন, ‘পাহাড়ের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র