


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও আবর্জনার স্তূপে চাপা পড়ে গিয়েছে বাসস্টপ, কোথাও আবার বাসস্টপ দখল করে দিব্যি চলছে হেয়ার কাটিং সেলুন। কোনো কোনো জায়গায় বাসস্টপের ভিতর ডাঁই করে রাখা হয়েছে রাস্তার গার্ড রেল। এমনই বেহাল ও বিচিত্র অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে হাওড়া শহরের বহু বাসস্টপ। ফলে নির্দিষ্ট জায়গায় বাস দাঁড়ানোর সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝখানেই যাত্রী তোলা-নামানো করতে হচ্ছে বাসগুলিকে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে শহরের যানজটও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বাসচালকদের একাংশের দাবি, প্রশাসন আগে বাসস্টপগুলি সচল করুক। বাস দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি হলে যানজট সমস্যাও অনেকটাই কমে যাবে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা গিয়েছে, বহু বাসস্টপ কার্যত অচল হয়ে গিয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি ট্রাফিকের দপ্তরের কিছুটা আগে বেলিলিয়াস রোডের ধারে রয়েছে একটি বড়ো ভ্যাট। সেখানকার আবর্জনার পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া নোংরা দিনের পর দিন রাস্তায় ছড়িয়ে থাকে। সেই আবর্জনার স্তূপ এখন সংলগ্ন বাসস্টপটিকে গ্রাস করেছে। এক সময় এখানে যাত্রীদের জন্য একটি সুদৃশ্য বাসস্টপ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে আবর্জনার চাপে সেটি প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। বেলিলিয়াস রোড ধরে জি টি রোডের দিকে এগলেই সংযোগস্থলে রয়েছে আরেকটি বাসস্টপ। সেখানে যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাই নেই। কারণ বাসস্টপের ভিতরে চেয়ারের সারি বসিয়ে রীতিমতো সেলুন চলছে। ফলে বাসচালক বা যাত্রী— কেউই সেটিকে বাসস্টপ হিসাবে ধরেন না। স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় প্রায় সারাদিন যানজট লেগে থাকে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা মহাত্মা গান্ধী রোডেও একই ছবি। ডিএম বাংলোর সামনের ঝাঁ-চকচকে বাসস্টপটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অভিযোগ, বাসস্টপের সামনে সারি দিয়ে সরকারি গাড়ি পার্কিং থাকায় সেখানে বাস দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। হাওড়া পুরসভার উলটোদিকের বাসস্টপটির অবস্থাও প্রায় একই রকম। এছাড়াও জি টি রোড, নেতাজি সুভাষ রোড, পঞ্চাননতলা রোড, মাকড়দহ রোড এবং আন্দুল রোডের ধারে একাধিক বাসস্টপ বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এমন অচল বাসস্টপের সংখ্যা শতাধিক বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা গিয়েছে, কখনও পুরসভার উদ্যোগে, কখনও আবার সাংসদ বা বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় এই বাসস্টপগুলি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশই এখন জরাজীর্ণ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বেহাল বাসস্টপগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বাসস্টপে যাতে যাত্রী ওঠানামা করেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে একের পর এক বাসস্টপ বেদখল হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় বাসস্টপের ভিতরে গার্ডরেল বা নির্মাণ সামগ্রী জমা করে রাখা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই রাস্তার মাঝখানে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাসচালকদের মতে, প্রশাসন দ্রুত বাসস্টপগুলির হাল ফেরালে শহরে যানজট সমস্যা অনেকটাই কমবে।