


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার রাতে শহরের এক কাউন্সিলারের ফোন এল এক চক্ষু চিকিৎসকের কাছে। ‘দাদা, ভাইপো বাজি ফাটাচ্ছিল। চোখে বাজির গুঁড়ো ঢুকে গিয়েছে। তাকাতে পারছে না। চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল হয়ে রয়েছে। কিছু একটা করুন দাদা!’ দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা ২৩-২৪ বছরের সেই যুবককে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হল রাজ্যের এক নম্বর সরকারি চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজিতে (আরআইও)।
মঙ্গলবার রাতে কাটাকলের কাছে বাড়ির ছাদে তুবড়ি পোড়াচ্ছিলেন বিএসসি অনার্সের ছাত্রী শ্রেয়া তিওয়ারি। হঠাৎই একটি তুবড়ি ফেটে বিপত্তি। লাল গনগনে তুবড়ির টুকরো পড়ল যুবতির ডান হাতে। পুড়ল তালু, কবজি, আঙুল। পুড়ল চিবুকের অংশবিশেষ। বাবা ট্যাক্সিতে বাড়ি ফিরছিলেন। খবর পেয়ে সেই ট্যাক্সিতে মেয়েকে নিয়ে ছুটলেন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইউনিটে। শ্রেয়ার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর ইমার্জেন্সি ড্রেসিং করা হয়েছে। একটি ছোট অস্ত্রোপচারও হবে। এই বার্ন ইউনিটেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আছেন বছর পঞ্চাশের এক মহিলা। কালীপুজোর দিন পুজো করতে গিয়ে প্রদীপের আগুন শাড়িতে লেগে ৬০ শতাংশ দগ্ধ হন। কোমর থেকে নিম্নাংশের প্রায় পুরোটাই পুড়ে গিয়েছে। বাজি পোড়াতে গিয়ে দু’হাতে অংশবিশেষ পুড়ে এই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি আছে দুই যুবক-যুবতিও।
আরআইও সূত্রের খবর, ২০ এবং ২১ অক্টোবর, কালীপুজো এবং তার পরেরদিন বাজি পোড়াতে গিয়ে কর্নিয়া ছিঁড়েছে (কর্নিয়া রাপচার) শহর এবং আশপাশের ৮ জনের। এমনই অবস্থা হয়েছে চটজলদি কর্নিয়া সেলাই করতে হয়েছে তাঁদের। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য কয়েকজনের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। আরআইও’র এক পদস্থ সূত্রের খবর, আতশবাজি পোড়াতে গিয়ে ২০ এবং ২১ তারিখে চোখের ক্ষতি করেছেন ১২ জন।
শুধু চোখে আঘাত বা আগুনে পোড়াই নয়, বাজির জন্য বহু মানুষের শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিজি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগ সূত্রের খবর, কালীপুজো এবং দীপাবলির দিন অন্তত ৮-৯ জন কম শোনা, কানে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হওয়ার সমস্যা নিয়ে আউটডর অথবা ইএনটি ইমার্জেন্সিতে এসেছেন।