


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: নদীর পাড়েই তাঁদের সংসার। তাঁদের মধ্যে কেউ হারিয়েছেন চাষের জমি, কেউবা ভিটেমাটি। তাঁদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে নদী। বহু প্রতিশ্রুতির পরেও কংসাবতী নদীর ভাঙন নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই নদীর পাড়ে বসে পুরনো স্মৃতি ভাবলেই তাঁদের চোখে জল আসে। ছবিটা মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া, মণিদহ, কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের। এবছর বৃষ্টি বেশি হলে নদীর গর্ভে একাধিক গ্রাম চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছরে এক হাজার বিঘার বেশি চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এরফলে চাষের কাজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।বিজেপি দলের প্রথম সারির নেতারা নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কথা রাখতে পারেননি। তাই জন প্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের কাছে নদীর ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কাতর আর্তি জানানো হচ্ছে।
মেদিনীপুর সদর ব্লকের উপরডাঙা এলাকায় নদীভাঙনের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা অমিত ঘোষ, কমল মণ্ডল বলেন, এখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চাষের। বহু চাষি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। তবে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে একাধিক গ্রাম জলের তলায় চলে যাবে। প্রশাসনের বিষয়টি দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এবছর বেশি বৃষ্টি হলে নদীভাঙন আরও বেশি পরিমাণে হবে। এরফলে এলাকার বহু চাষি কর্মহারা হবেন। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। নদী ভাঙন নিয়ে কাজ কিছুই হয়নি।
এদিন নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলেন চাঁদড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ধজিধরা গ্রামের বাসিন্দা সুদেব রানা। এই গ্রামে ৩০০টির বেশি বাড়ি ছিল। কিন্তু বর্তমানে ৬০টি বাড়িতে এসে ঠেকেছে। এভাবে চলতে থাকলে এই গ্রামের আর অস্তিত্ব থাকবে না। মাথার উপর থেকে ছাদ চলে যাবে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার। জানি না কী হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া, মণিদহ, কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একপাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। একদিকে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। অপরদিকে, মানুষের সুবিধার্থে রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থাও হয়েছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নদী ভাঙন। ইতিমধ্যেই এই নদী ভাঙনের ফলে শতাধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। কিন্তু সেভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিজেপি নেতারা এই এলাকায় এসে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। স্থানীয় বিধায়ক সুজয় হাজরাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওঁর তরফে আশ্বাস মিলেছে। এবছর নদী ভাঙন আটকাতেই হবে। নাহলে মানুষ শেষ হয়ে যাবে।
এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, ইতিমধ্যে বিধানসভায় এই প্রসঙ্গ তুলেছি। খুব দ্রুত এনিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিজেপি তো শুধু প্রতিশ্রুতি দিতেই জানে।জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, তৃণমূল প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। কিছুই করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে মানুষ সব বুঝিয়ে দেবেন।