


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুল শিক্ষকদের বুথ লেভেল অফিসারের ডিউটি দেওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক, আইনি লড়াই চলছে। তবে, স্কুলের সার্কেল অফিসে কর্মী-আধিকারিকের সঙ্কটে শিক্ষকদের গিয়ে ‘ডিউটি’ দেওয়া পুরনো রীতি। বহু সার্কেল অফিসই চলে শিক্ষকদের জন্যই। অনেক সময়ই গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মীদের দায়িত্বও তাঁদের পালন করতে হয়। তবে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষকের খামতি হয়। তাই, এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কর্মী নিয়োগ চাইছেন এসআই এবং ডিআইরা। স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বিধি প্রকাশিত হওয়ার পরে এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
দেখে নেওয়া যাক, এই পদে কোথায় কেমন শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন সার্কেলে মোট ৫১টি স্কুল পরিদর্শকের (এসআই) শূন্যপদ রয়েছে। বিকাশ ভবন এবং জেলা অফিসগুলিতে এই শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় ২৫০। এআই বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুলস পদটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা রাজ্যে ৯৫০টি পদের মধ্যে ফাঁকা রয়েছে ৪৭৪টি। জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং সহকারী জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই এবং এডিআই) পদ ফাঁকা রয়েছে ৪৩টি। এ তো গেল আধিকারিক স্তরে শূন্যপদের খতিয়ান। সার্কেল অফিসগুলিতে গ্রুপ ডি এবং গ্রুপ সি পদে প্রায় ৯৫ শতাংশ শূন্যপদই বহুদিন পুরণ করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির বক্তব্য, এই বিপুল শূন্যপদের জন্য ব্যাপক সমস্যায় পড়ছেন কর্মী আধিকারিকরা। শিক্ষকদের নিয়ে কাজ সামলে নেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। প্রসঙ্গত, এই পদগুলি পূরণ হয় স্টাফ সিলেকশন কমিশন বা এসএসসি’র মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরেই তা থমকে থাকায় পরিস্থিতি এখানে এসে পৌঁছেছে। শিক্ষকদের শূন্যপদের হিসেব তৈরি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প রূপায়ণ, নজরদারি, বড় পরীক্ষা পরিচালনা সহ স্কুলের দৈনন্দিন কাজকর্মেও সার্কেল অফিস থেকে ডিআই অফিসের ভূমিকা থাকে। স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাপনাটিই এ ধরনের কর্মী-আধিকারিকদের উপরে নির্ভরশীল। সেখানেই এত শূন্যপদ থাকলে গোটা ব্যবস্থা কীভাবে চলছে, তা সহজেই অনুমেয়।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই খাতে শূন্যপদ পূরণ না করে ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে নানা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে বিকাশ ভবনকে। শুধুমাত্র কর্মী সঙ্কটের জেরেই ভ্যাকান্সি নির্ণয়, যোগ্য-অযোগ্য শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর হিসেব সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভুলভ্রান্তি হয়েছে। মামলায় জেরবার হতে হয়েছে সরকারকে। তাই, এই খাতে নিয়োগ করলে সরকারের সময়, ভোগান্তি এবং অর্থের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে উপকৃত হবেন শিক্ষক ও শিক্ষক পদপ্রার্থীরা।