


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বিধাননগর ও বারাকপুর: সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুজোর আর্থিক অনুদানের অঙ্ক ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি আবেদন রেখেছিলেন, ‘বড়ো পুজোগুলি, যাদের এই টাকা না হলেও চলে, তারা সম্ভব হলে এই সাহায্য নেবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রীর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এবার বহু দুর্গাপুজো কমিটি সরকারি অনুদান নিচ্ছে না। ইতিমধ্যে কলকাতা, নিউটাউন থেকে বারাকপুর মহকুমার বীজপুরের একাধিক পুজো কমিটি টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
নিউটাউন সর্বজনীনের সম্পাদক সমরেশ দাস বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদানের প্রস্তাবকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে আমাদের সব সদস্যের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবছর সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ হাতিবাগান সর্বজনীনের তরফে শাশ্বত বসু, কাশী বোস লেনের পুজোকর্তা সোমেন দত্তও এবার সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল পুরোটাই ছাড় দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কলকাতা এবং বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে প্রায় ৭০০ পুজো কমিটি। শুধুমাত্র কলকাতার ৫০০ পুজো এই ফোরামের সদস্য। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি বাজেটের পুজো করে বড়োজোর ১০০ পুজো কমিটি। অর্থাৎ শহরের বেশিরভাগ পুজোর বাজেট ২৫ লক্ষ টাকার কম। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, শহরের ৫০ শতাংশের বেশি পুজোর বাজেট ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। এই অবস্থায় সরকারের দেওয়া এক লক্ষ টাকা বেশিরভাগ পুজো কমিটিরই নেওয়ার কথা। যদিও একাধিক বড়ো পুজো কমিটি জানিয়েছে, তারা অনুদানের আবেদন করবে না।
বীজপুর বিধানসভা এলাকার বাগমোড় পুজো কমিটি, মহাজাতি পুজো কমিটি, ষোলোর পল্লি পুজো কমিটিও অনুদান নেবে না বলে জানিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁর বিধানসভা এলাকার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কাঁচরাপাড়া ও হালিশহরে বেশ কয়েকটি বড়ো পুজো হয়। সেখানে ভিড় সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা করেছে। এই এলাকার এই তিনটি বড়ো পুজো কমিটির কর্তারা জানান, তাঁরা বিজ্ঞাপন ছাড়াও নানাভাবে সহযোগিতা পান। তাতেই পুজো করা সম্ভব। তাই সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে অর্থসাহায্য না নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটিগুলি। বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সোমবার বৈঠক করেছেন। আমরা মঙ্গলবার করলাম। ছোটো-বড়ো সব পুজো কমিটি ছিল। তিনটি কমিটি অনুদান না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। বিভিন্ন পুজো কমিটি নানা ধরনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’