


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ৮৯ বছর বয়সে দৌড়েছিলেন জীবনের প্রথম ম্যারাথন। মনে করা হয়, ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রবীণতম দৌড়বীর তিনিই। সোমবার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সেই কিংবদন্তি অ্যাথলিট ফৌজা সিংয়ের। বয়স হয়েছিল ১১৪। পুলিস জানিয়েছে, ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চালকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
পাঞ্জাবের জলন্ধরের কাছে বিয়াস পিণ্ড গ্রাম ফৌজার জন্মস্থান। সেখানেই রাস্তা পেরনোর সময় গাড়ির ধাক্কায় মারাত্মক জখম হন তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গাড়ির ধাক্কায় ৫-৭ ফুট ছিটকে যান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর লন্ডনের রানিং ক্লাব ‘শিখস ইন দ্য সিটি’ জানিয়েছে, পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে আগামী কর্মসূচিতে ফৌজার জীবন ও কৃতিত্ব উদযাপন করা হবে। বিশ্বের অগণিত অ্যাথলিটের অনুপ্রেরণা ছিলেন ফৌজা। ছোটবেলায় তাঁর পা ছিল দুর্বল। পাঁচ বছর বয়স অবধি ঠিকমতো হাঁটতেই পারতেন না। ১৯৯২ সালে লন্ডনের ইলফোর্ডে চলে আসেন ফৌজা। ২০০০ সালে জীবনের প্রথম ম্যারাথনে অংশ নেন। দৌড় শেষ করেন ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটে। এরপর থেকে একাধিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ফৌজা। ২০০৩ সালে টরন্টো ম্যারাথনে মাত্র ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেছিলেন। এটিই তাঁর জীবনের সেরা। এর ৮ বছর পর, ১০০ বছর বয়সে ম্যারাথনে অংশ নেন ফৌজা। শতায়ু হিসেবে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রথম দৌড়বীর তিনিই। ২০১২ সালে লন্ডন ওলিম্পিক্সের মশালবাহক ছিলেন। এরপরই ১০১ বছর বয়সে অবসর নেন ফৌজা। ২০১৫ সালে ক্রীড়া ও দাতব্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘ব্রিটিশ এম্পায়ার’ মেডেল পান। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ফৌজা সিংজি ছিলেন অসাধারণ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও যেভাবে তিনি ভারতের যুবসমাজকে ফিটনেস নিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন, তা বিশেষ প্রশংসার যোগ্য। তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী ক্রীড়াবিদ। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার ও বিশ্বের অগণিত ভক্তদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’