


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাঁইথিয়ার মার্বেল গোডাউন থেকে নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম পঙ্কজ পারেখ ও শ্রেয়াংস পারেখ। তাদের বিরুদ্ধে পকসো, শিশুশ্রম সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার সাঁইথিয়ার একটি গোডাউন থেকে এক নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার পরই নাবালিকার পরিবার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরিবারের দাবি, ওই নাবালিকা গত দেড় বছর ধরে ওই মার্বেল ব্যবসায়ীদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত। পরিবারের অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে মালিক ও তাঁর ছেলে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। পরিবারের দাবি, নাবালিকাকে খুন করে দেহ গোডাউনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে আচমকাই বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। তাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে প্রথমে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু সিউড়ি যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। সিউড়িগামী রাস্তাতেই মার্বেলের গোডাউন রয়েছে। তাই নাবালিকার দেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে গিয়ে গোডাউনের কাছে অপেক্ষা করছিল তারা।
শুক্রবার সকাল থেকে এনিয়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। নাবালিকার পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েই ওই মার্বেল গোডাউনের মালিক তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার সকালে ধৃত দু’জনকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নাবালিকার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, বিষক্রিয়ায় নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, স্বেচ্ছায় নাকি বলপূর্বক নাবালিকার শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত নাবালিকাকে দিয়ে সেখানে পরিচারিকার কাজ করানো হত যা আইনত দণ্ডনীয়। সেকারণে পকসোর পাশাপাশি ধৃতদের বিরুদ্ধে শিশুশ্রম এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনেও ধারা যোগ করা হয়েছে। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গোডাউনে আর কোনো অনৈতিক কাজ চলত কি না তাও খতিয়ে দেখছে, সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে ঘটনার রহস্যভেদের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।