


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সম্প্রতি সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে বার-বি-কিউ ঘিরে অগ্নিকাণ্ডে এক গৃহবধূ গুরুতর জখম হয়েছেন। এঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রচারে পর্যটকদের একাংশের মধ্যে এখানকার হোমস্টে নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুজোর পর্যটনে সেই আতঙ্ক যাতে উত্তরবঙ্গের পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তার জন্য এবার হোমস্টেগুলির নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। শনিবার শিলিগুড়িতে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, হোমস্টে নিয়ে শীঘ্রই নতুন নীতি আসতে চলেছে। তার আগে পুজোর পর্যটনে সিটংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের মধ্যে যাতে উত্তরবঙ্গের হোমস্টে সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা বা অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসকদের নিজেদের এলাকার প্রতিটি হোমস্টের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকবান্ধব পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, সিটংয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোমস্টে কর্মী ও অংশীদার সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। তবে এঘটনার প্রভাব পুজোর পর্যটনে পড়বে না বলেই দাবি পর্যটন ব্যবসায়ীদের। হিমালয়ান ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন এইচএইচটিডি-র সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী বলেন, সিটংয়ের ঘটনা নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও তার প্রভাব বুকিংয়ে পড়েনি। পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার হোমস্টেগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গিয়েছে। ট্রেনের টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। ফলে পুজোয় পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হোমস্টের বুকিংও বাড়ছে। তাঁর কথায়, প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ করেছে এবং পর্যটন মহলেও পর্যটকদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সিটংয়ের ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসাবেই দেখা উচিত।