


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিল রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। স্যালাইন কাণ্ডের পর যেসব খামতি চিহ্নিত হয়েছিল, সেগুলি সংশোধন করে ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে মা ও শিশুর সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাংলার সরকারি হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যু তার আগের বছরের তুলনায় কমল অনেকটাই। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে প্রসবকালে বা তার অব্যবহিত পরে মারা গিয়েছিলেন ১১৩২ জন ‘মা’। সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ৯০০-রও কম (৮৯৮ জন)। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে প্রসূতি মৃত্যু কমেছে ২৩৪টি। মেটারন্যাল মর্টালির্টি রেট (এমএমআর) বা প্রসূতি মৃত্যুর হার বলতে বোঝায়, প্রতি ১ লক্ষ প্রসবে কতজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। সেদিক থেকে বর্তমানে জাতীয় গড় এমএমআর হল ৯৭। শেষ হিসেব পাওয়া পর্যন্ত বাংলায় এই হার ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের—একশোরও বেশি (১০৩)। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা কমে হয়েছে ৬৮।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, মেদিনীপুরে স্যালাইন কাণ্ডের পর কড়াকড়ির ফল মিলেছে হাতেনাতে। জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে বেশ কয়েকটি বিষয়। তার মধ্যে অন্যতম হল সিনিয়রদের লেবার রুমে না থাকা এবং সন্ধ্যার পর জুনিয়রদের ভরসায় হাসপাতাল চালানো। সিনিয়রদের বিন্দুমাত্র নজরদারি ছাড়াই কঠিন ‘কেস’ করতে নামাটাও একটা কারণ। লাগাতার শো-কজ, সাসপেন্ড, পর্যালোচনা, আত্মসমীক্ষায় হাতেনাতে ফল মেলে। তারপর থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত মাসে প্রসূতি মৃত্যু কমে হয় গড়ে ৫০-এরও কম। আগে যা ছিল মাসে গড়ে ১০০-র বেশি। কম হওয়া ২৩৪ প্রসূতি মৃত্যুর মধ্যে ১৫০’র বেশি মৃত্যু কমেছে স্যালাইন কাণ্ডের পর।
জানা গিয়েছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন ধরে মোট প্রসূতি মৃত্যুর মধ্যে মারা যাওয়া ১৮-২০ শতাংশ ‘মা’ই ছিলেন ‘কিশোরী মা’। সেই সংখ্যাও এবারের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য হারে কমে হয়েছে ১৫ শতাংশ। রাজ্য পরিবার কল্যাণ আধিকারিক ডাঃ অসীম দাস মালাকার বলেন, ‘এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে।’