


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: নাগরিকত্ব মিলবে, পাবেন ভোটাধিকারও—মতুয়াদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি নাগাড়ে বিলি করেছিলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তিনিই আবার দু’দিন আগে স্বীকার করেছেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে এক লক্ষ নাম বাদ গেলেও, আমাদের সহ্য করতে হবে।’ এই স্বীকারোক্তি মতুয়াদের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। কেন ভঙ্গ হল নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি? কেন হলাম প্রতারিত? এই প্রশ্নের জবাব চাইতে বুধবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন সাধারণ মতুয়ারা। এক প্রবীণ মতুয়া সহ জখম হয়েছে কমপক্ষে সাতজন। অভিযোগ, পাগল, গোঁসাই, দলপতি সহ সাধারণ মতুয়া ভক্তদের বেধড়ক মারধর করেছে শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা। কিল, চড়, লাথি, ঘুষি আর চুলের মুঠি ধরে তাঁদের হেনস্তার ছবি দুপুর থেকেই ‘ভাইরাল’ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। রেহাই পাননি মহিলারাও। মতুয়া তীর্থক্ষেত্র ঠাকুরবাড়িতে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষের উপস্থিতিতে ঘটেছে এই বর্বরোচিত আক্রমণ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও, বিকাশবাবু অবশ্য এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ঘটনায় গাইঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্তরা।
যদিও শান্তনুর পালটা অভিযোগ, ‘মমতা ঠাকুরের অনুগামীরাই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। আমাকে আক্রমণই ছিল ওদের লক্ষ্য। আমার লোকেরা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মার খেয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জানাব।’ এই দাবি অবশ্য মানতে রাজি নন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। তিনি বলেছেন, ‘শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের ঠকিয়েছেন। মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় শংসাপত্র বিলি করেছেন টাকার বিনিময়ে। কিন্তু নাগরিকত্ব থেকে গিয়েছে অধরাই। এখন আবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন বনগাঁ মহকুমার লক্ষাধিক মতুয়া। এদিন মতুয়া ভক্তরা জবাব চাইতে ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিজেপি জেলা সভাপতির নেতৃত্বে গুন্ডাবাহিনী মহিলাদেরও রেয়াত করেনি। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন।’
এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ঠাকুরবাড়িতে ক্যাম্প বসিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা। হাজার টাকার বিনিময়ে মতুয়া মহাসংঘের কার্ড আর হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট বিলি করা হয় সেখান থেকে। প্রচার ছিল, সিএএ’র আবেদনে এই কার্ড ও সার্টিফিকেট দেখালেই মিলবে নাগরিকত্ব। নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। কিন্তু আইনের কঠিন শর্তে নাগরিকত্ব এখনও পাননি মতুয়ারা। তার মধ্যেই বনগাঁ মহকুমার বাসিন্দা এই সম্প্রদায়ের ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পর্বে শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার রেশ ধরে এদিন ঠাকুরবাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল মমতা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের অনুগামীরা। দুপুর দুটো থেকে ঠাকুরবাড়িতে শুরু হয় জমায়েত। ডঙ্কা, কাঁসর, নিশান নিয়ে দলে দলে মানুষ জড়ো হন। শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির সামনে হাজির হয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন একদল মতুয়া ভক্ত—‘কেন প্রতারণা করলেন? জবাব দিন!’ সেই সময় শুরু হয় হামলা। শ্যামনগরের বাসিন্দা নান্টু গোঁসাই নামে এক ভক্তকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাব মারধর করা হয়। তাড়া করে মারধর করা হয় আরও বেশ কয়েকজনকে।