


ঠাকুরের জন্য হার কিনেছি
কৌশানী মুখোপাধ্যায়
•আমাদের বাড়িতে যেহেতু কালী পুজো হয়, প্রতিবছরই ধনতেরসে মায়ের জন্য সোনা কিনি। ছোটো থেকেই বাবা, মাকে দেখতাম এই বিশেষ দিনে কিছু না কিছু কিনতেন। ঠাকুরমা, ঠাকুরদাও এই সময়ে সোনা কিনতেন। আমার পরিবারে সকলে মনে করেন, এই সময় সোনা কেনা শুভ। সেই প্রথা এখনও মেনে চলি। তবে এখন ধনতেরসের দিনই নানা ব্যস্ততায় সব সময় কেনা হয়ে ওঠে না। আমি আবার কোনো কাজ ফেলেও রাখতে চাই না। সে কারণে আগেই সোনা কিনে রাখি। কারণ বিভিন্ন সোনার দোকানে আগে থেকেই অফার শুরু হয়ে যায়। এবছর আমাদের বাড়ির মা কালীর জন্য সোনার জিভ আর গলার একটা চোকার কিনেছি।
সোনার গয়না অথবা রুপোর কয়েন কিনব
কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
•আমার বাড়ি ভবানীপুরে। ছোটো থেকে সেখানেই বড়ো হয়েছি। বাড়ির সামনে অনেক সোনার দোকান ছিল। সেখানে সোনা কেনাবেচা হতে দেখেছি। ধনতেরসকে ঘিরে এই কেনাকাটার বিষয়টা আমার বেশ ভালোই লাগে। তাতে মানুষের কিছু সঞ্চয় হয়। সেটা অল্প হোক বেশি— সোনা সঞ্চয় হয়। যদিও এখন সোনার দাম অনেকটাই। ধনতেরসে অনেকে অনেক কিছু কেনেন। আমিও কিনি। তবে এবছর এখনও কিছু পরিকল্পনা করিনি। যখন টাকা কম থাকে, তখন এরকমও হয়েছে একবার স্টিলের বাটি কিনেছিলাম। এবার সোনার কোনো গয়না কিনব অথবা রুপোর কয়েন। আসলে মা চলে যাওয়ার পর মন খারাপ লাগে এসব দিনে। মায়ের কথা ভেবেই মায়ের মতো সাজব, সোনার গয়না কিনব।
গয়না কেনা নিয়ম, এবার একটা আংটি কিনব
অপরাজিতা আঢ্য
• আমরা সোনার বেনে। ফলে ধনতেরসে সোনা কিনতে হয়। তামা, পিতলের বাসন কিনতে হয়। এটা আমাদের বংশের নিয়ম। আমি ছোটো থেকে সেটাই দেখছি। বিয়ের আগে পর্যন্ত উনুনে রান্না হত। তখন পিতলের বাসনেই খাওয়া হতো। আসলে ওসব পাত্রের ওষধি গুণ বেশি। আমি দেখেছি ঘটি, বাটি যাই কেনা হোক, সেটা চাল দিয়ে ভরা থাকত। সেই চালেই সেদিন রান্না হতো। আর ওই পাত্রটা সারা বছর ব্যবহার হত। সেই ধারা আমি এখনও বজায় রেখেছি। একটা রুপোর কয়েন হলেও প্রতি বছর কিনি। এখন সোনার সত্যিই অনেক দাম। আমি ভেবেছি, এবার একটা আংটি কিনব। আমার আংটির স্টক কমে গিয়েছে। আত্মীয়দের বিয়েতে আমার গয়না ভেঙে অনেক কিছু গড়িয়ে নিয়েছি। বড়ো গয়না ভাঙতে হয়েছে পারিবারিক বিয়েতে। ফলে আমার আংটি কমে গিয়েছে। এবার একটা বড়ো আংটি কিনব।
রূপোর বাসন কিনব
পল্লবী শর্মা
• ছোটো থেকে বাবাকে দেখেছি ধনতেরসের দিন রুপোর কয়েন কিনত। ফলে আমি ধনতেরসের ব্যাপারটা হঠাৎ জেনেছি, এমন নয়। যদিও আমি খুব একটা নিয়ম মানি না। কিন্তু বাবা কিনত। এখন বাবা নেই। আমি তাই চেষ্টা করি। ধনতেরসের দিনই কিছু কেনা অনেক সময় হয় না। ইচ্ছে থাকলেও শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততা বা অন্য নানা কারণে হয়তো ওই দিনই কিছু করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু ধনতেরসের সপ্তাহের মধ্যে রুপোর কয়েন, ঠাকুরের বাসন কিছু না কিছু কেনার চেষ্টা করি। এবারও তেমনই রুপোর বাসন কেনার ইচ্ছে আছে।
সোনা বা রুপোর হালকা গয়না কিনব
দর্শনা বণিক
• গয়না পরতে আমি ভালোবাসি। তবে ভারী গয়না সব সময় ক্যারি করতে ভালো লাগে না। সব পোশাকের সঙ্গেও তা মানানসই নয়। তাই হালকা গয়নার কালেকশন আমার বেশি ভালো লাগে। ধনতেরসকে শুভ মনে করা হয়। সেদিন সোনা বা রুপো কেনার চেষ্টা করি। সোনা অল্প কিনলেও রুপো আমি কিনবই। আসলে কোথাও পড়েছিলাম সাদা ধাতু কিনতে বলা হয়। তাই রুপো। তাছাড়া ওয়েস্টার্ন হোক বা ট্র্যাডিশনাল রুপোর নানা ধরনের গয়না আমি পরি। একেবারে ছোটোবেলায় ধনতেরসে আলাদা করে মাকে কিছু কিনতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আমি বোধহয় তখন স্কুলে পড়ি। সিক্স, সেভেন হবে, তখন থেকে ধনতেরসের জাঁকজমক ব্যাপারটা শুরু হল। মা-ও কিনত। আমার তো মার্কেটিং গিমিক মনে হয়। গয়নার দোকানের পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন থাকে। আমি যদিও সারা বছরের যে কোনো সময় পছন্দ হলে বা প্রয়োজনে গয়না কিনতে ভালোবাসি। এই সময়টা ছোটোবেলায় শেখা নিয়ম পালন করতেও ভালো লাগে। ভূতচতুর্দশীতে চোদ্দো শাক খাই। মাটির চোদ্দো প্রদীপ জ্বালাই। আলো দিয়ে সারা বাড়ি সাজাই।
মা সোনা কিনত, আমি রুপোর কয়েন কিনব
কৌশাম্বী চক্রবর্তী
• সোনার থেকেও রুপো আমার বেশি পছন্দের। ধনতেরস মা সোনা কিনত। কিন্তু আমি রুপোর কয়েন কিনতেই বেশি ভালোবাসি। কখনো আবার রুপোর গয়নাও কিনি। আসলে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা থাকে না। কিছু পছন্দ হলে টাকা জমাই। আবার কখনো দোকানে গিয়ে হঠাৎই কিছু পছন্দ হয়ে যায়। তখন বাজেট বুঝে সেটা কিনে ফেলি। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য হালকা গয়না আমার পছন্দের। ভারী গয়না তো অনুষ্ঠান ছাড়া পরা হয় না। তাছাড়া শ্যুটিংয়ে ভারী গয়না ক্যারি করতে হয় বেশিরভাগ সময়। তাই এমনিতে আমি একেবারে হালকা গয়না পরি।