


সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায়: ধন্বন্তরি দেবতার আবাস সমুদ্র। তাঁকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে ধরা হয়। (বৈষ্ণব ধর্ম, আদি পুরুষ) মন্ত্র—‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় ধন্বন্তরে অমৃত কলস হস্তায় সর্ব মায়া বিনাশায় ত্রৈলোক্যনাথায় শ্রীমহাবীষ্ণবে নমঃ।।’ দেবতার অস্ত্র— শঙ্খ, চক্র। প্রতীক— অমৃত, জোঁক। বাহন— জলপদ্ম। উৎসব— ধনতেরস।
পৃথিবীতে অবতার রূপে পরিগ্রহ করেন, তিনি কাশীতে রাজত্ব করেছিলেন। প্রাচীন কাশী বর্তমানে স্থানীয়ভাবে বারাণসী নামে পরিচিত। ধন্বন্তরিকে বিষ্ণু পুরাণে কাশীর পৌরাণিক রাজা দিবোদাসের প্রপিতামহ বলা হয়েছে।
যদিও এ সম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক দলিল বা প্রমাণ নেই।
ধনতেরস বা ধনত্রয়োদশী হল ভারতের অধিকাংশ স্থানের উদ্যাপিত দীপাবলি উৎসবের প্রথম দিন। এই দিনটি হিন্দু পঞ্জিকাতে আশ্বিন বা কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয়।
ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদের দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধন্বন্তরিকে ধনতেরস উপলক্ষ্যে পুজো করা হয়। তিনি মানবজাতির উন্নতির জন্য ও রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে আয়ুর্বেদের জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। হোমিয়োপ্যাথি মন্ত্রণালয় ধনতেরসকে ‘জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা ২৮ অক্টোবর ২০১৬ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল।
ধনতেরস হল ধন্বন্তরি পুজোর দিন। হিন্দু ঐতিহ্য অনুসারে, ধন্বন্তরি সমুদ্র মন্থনের সময় আবির্ভূত হন। তিনি এক হাতে অমৃত পাত্র ও অন্য হাতে আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত পবিত্র বই ধারণ করেন। তাকে দেবগণের বৈদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁকে বিষ্ণুর অবতার বলে মনে করা হয়।
উৎসবটি লক্ষ্মীপুজো হিসেবে পালিত হয়। এদিন মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। মহারাষ্ট্রে গুড়ের সঙ্গে শুকনো ধনে বীজ অল্প আধা কেজি মিশ্রণ তৈরি করে উপাচার হিসেবে দেওয়া হয়। চালের আটা ও সিঁদুরের গুঁড়ো দিয়ে ছোটো ছোটো লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ সারা গৃহে আঁকা হয়, যাতে দেবী লক্ষ্মীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আগমন বোঝা যায়। ধনতেরসের রাতে লক্ষ্মী ও ধন্বন্তরির সামনে প্রদীপ সারারাত জ্বালিয়ে রাখা হয়।
ধনতেরস মানে শুধু সোনা, রুপো, দামি বাসনপত্র বা দামি জিনিস কেনা নয়। ধনতেরসের প্রকৃত তাৎপর্য আরও গভীরে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ধন-সম্পত্তির সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের স্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি, শান্তি, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, অন্নের সংস্থান, পরিবারে যেন কোনো অভাব না থাকে, পরিবারের সকলে ভালো থাকে, সকলের উপার্জন করা পয়সা যেন নষ্ট না হয়, ব্যবসায় লাভ হোক। লোকসান যেন না হয়। সমস্ত শুভকামনা নিয়ে আমরা ধনতেরসের দিন মা লক্ষ্মী, কুবের, গণেশ ও বিষ্ণুর পুজো করে থাকি। সোনা, রুপো, দামি বাসনপত্র দামি জিনিস না কিনে বাজার থেকে সস্তায় এমন সাতটি জিনিস কিনে আনুন, যাতে দেবী প্রসন্ন থাকেন এতে বেশি অর্থ ব্যয় হবে না। এই ৭টি জিনিস কিনে বাড়িতে রাখুন এসবের দাম খুবই কম। এই জিনিসগুলো কিনে আনলে মা লক্ষ্মী, গণেশ, কুবের প্রসন্ন হন। সারা বছর দেবতার আশীর্বাদ আপনার উপর বর্তাবে। ওঁদের কৃপা আপনি লাভ করবেন। যা কিনবেন তার ১৩ গুণ ধন-সম্পত্তি লাভ হবে। আপনি অনন্তকাল ধরে এর সুখ ভোগ করবেন। যা কিনবেন তার শুভ ফল আপনি অনন্তকাল ধরে পাবেন। আপনি যে সাতটি জিনিস কিনবেন তার প্রথম জিনিসটি হল—
১৬টি পদ্মবীজ দশকর্মা দোকান থেকে কিনে আনুন। গঙ্গাজল ছিটোন লাল কাপড়ে মুড়ে রাখুন মা লক্ষ্মীর সামনে। ওগুলোকে অর্পণ করুন। এতে ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি চলে যাবে। পজেটিভ এনার্জি ঘরে আসবে। সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ হবে। পদ্ম মা লক্ষ্মীর আসন। তাই পদ্মবীজ অর্পণে দেবী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। দ্বিতীয় যে জিনিসটি কিনবেন সেটি হল অল্প পরিমাণ (৭০ গ্রাম) ধনে, লাল কাপড়ে মুড়ে গঙ্গা জলে ভিজিয়ে মা লক্ষ্মীর সামনে অর্পণ করুন এতে আপনার রান্নাঘরের কোনো জিনিসের অভাব থাকবে না। মা অন্নপূর্ণা স্বয়ং আপনার ঘরে বিরাজ করবেন। খাদ্যবস্তুর অভাব থাকবে না। তৃতীয় যে জিনিসটি কিনবেন, সেটি হল কাঁচা হলুদ, ১৬টি কাঁচা হলুদ ঘরে নিয়ে আসুন। গঙ্গা জলে ধুয়ে হলুদ কাপড়ে মুড়ে মা লক্ষ্মী ও গণেশের সামনে রাখুন। হলুদ হল সৌভাগ্যের প্রতীক। আমরা সকল শুভ কাজে হলুদের ব্যবহার করে থাকি। এই হলুদ আপনি লক্ষ্মী, গণেশ ও কুবেরের আসনের সামনে রেখে দিন আপনার সারা বছর এদের আশীর্বাদ আপনার ওপর বর্ষিত হবে। চতুর্থ যে জিনিসটি কিনবেন সেটি হল নুন। নুন কিনে কিছুটা নুন কোনো সাদা পাথরের বাটিতে করে ঠাকুরের সামনে অর্পণ করবেন আর কিছুটা নুন দিয়ে সেদিন সমস্ত ঘর মুছবেন। অর্থাৎ ঘর মোছবার জলে কিছুটা নুন দিয়ে দেবেন। এটি ঘরের অশুভ শক্তি দূর করতে সাহায্য করবে ও ঘরে শুভ শক্তি বিরাজ করবে। বাস্তু দোষ থেকে মুক্তি পাবেন। পঞ্চম যে জিনিস হল সেটা হল লক্ষ্মী কড়ি। ১১টি লক্ষ্মী কড়ি বাজার থেকে নিয়ে এসে ভালো করে ধুয়ে দুধের সঙ্গে ভিজিয়ে কোন পাথরের বাটিতে বা কাঁসা-তামা পিতলের পাত্রে মা লক্ষ্মীকে অর্পণ করবেন।
‘ক’-এর পাতার পর
মা লক্ষ্মীর আবাসস্থল সমুদ্র। আর সমুদ্রেই এই কড়ি পাওয়া যায়। এটি মা লক্ষ্মীর খুবই প্রিয়। সমুদ্র মন্থনের সময় এই কড়ি উঠে এসেছিল। ছ’নম্বর হল গোমতীচক্র বা নাগ শঙ্খ। ১১টি গোমতীচক্র ঠাকুরের সামনে অর্পণ করলে কোষ্ঠীতে বিষযোগ, সর্পদোষ, পিতৃদোষ, দারিদ্র্যযোগ, অলক্ষ্মীযোগ প্রভৃতি অশুভ প্রভাবগুলো নাশ হয়। এই ছয়টি জিনিস ধনতেরসের দিন দেবীর সামনে অর্পণ করবেন আর পরের দিন পুজোর পর সবগুলো নিয়ে কাঁসা বা পিতলের ঘটির মধ্যে রেখে লাল কাপড়ে (৭০ সেমি) মুড়ে ঠাকুরের সিংহাসনে বা সিন্দুকে রেখে দেবেন। এতে সারা বছর মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বর্ষিত হবে। আর সপ্তম জিনিসটি হল একসঙ্গে দুটো ঝাঁটা কিনবেন। ঝাঁটা যেন লোহার তার দিয়ে বাঁধা না থাকে। একটি ঠাকুরের সামনে রাখবেন আরেকটি ঠাকুর ঘর পরিষ্কার করার জন্য রাখতে পারেন। ওই ঝাঁটা দিয়ে বারান্দা, রাস্তা, নর্দমা বা নোংরা কোনো কিছু ঝাঁট দেবেন না।
হিন্দুরা এই দিনটিতে কেনাকাটা বিশেষ করে সোনা, রুপোর গয়না কেনা শুভ মনে করেন। রান্নাঘরের ও ঠাকুরের জিনিস তথা কাঁসা বা পিতলের বাসন, প্রদীপ, ঘণ্টা, গামলা, ঘটি, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যাদি ইত্যাদি কেনা অত্যন্ত শুভ। ঘরের দরজার সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করুন। এই প্রদীপ অকাল মৃত্যু এড়াতে দীপাবলির উৎসবের দিন যমের দেবতার কাছে অর্ঘ্য হিসাবে প্রদান করা হয়।
সমুদ্র মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মী স্বয়ং দুধসায়র থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে এদিন দেবী লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। ধন রক্ষার জন্য কুবেরেরও পুজো করা হয়। কিংবদন্তি অনুসারে, রাজা হিমের ১৬ বছর বয়সে পুত্রের বিবাহের চতুর্থ দিনে সাপের কামড়ের মৃত্যুর পূর্বাভাস ছিল। সেই দিন নববধূ তাঁর সমস্ত অলংকার, মুদ্রা, সোনার গয়না গৃহের শয়নকক্ষে দরজার সামনে জড়ো করে রেখেছিলেন। যমরাজ সাপের ছদ্মবেশে রাজকুমারের দরজার সামনে এলে প্রদীপ ও গয়নার উজ্জ্বল আলোকে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। ফলে যমরাজ কিছু দেখতে পাননি। নববধূর বুদ্ধিতে যুবরাজ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান, সেই জন্য এই প্রদীপকে ‘যমদীপ’ বলা হয়। উত্তর ভারতে এই দিনটি ‘ছোটা দেওয়ালি’ নামে খ্যাত।
জৈন মতে, ৫২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহাবীর নির্বাণ লাভ করেছিলেন। সেই জন্য এই দিনটিকে জৈনদের কাছে শুভ দিন। উপনিষদের বলছেন—
অসতো মা সদগময়
তমসো মা জ্যোতির্গময়।
মৃত্যোর্মা অমৃতংগময়
ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ।।
অর্থাৎ অসত্য থেকে সত্যে নিয়ে যাও, অন্ধকার হতে জ্যোতিতে নিয়ে যাও, মৃত্যু হতে অমরত্বে নিয়ে যাও। সর্বত্র যেন ছড়িয়ে পড়ে শান্তির বার্তা।
এদিন শ্রীরামচন্দ্র ১৪ বছর বনবাসের পর অযোধ্যায় ফিরে আসেন। অযোধ্যাবাসী তাঁদের প্রিয় রাজাকে ফিরে পেয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে বরণ করেছিলেন।
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ ত্রয়োদশীর দিন ধনতেরসের মাধ্যমে দীপাবলির উৎসবের সূচনা আর কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব শেষ হয়। দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার ১৮ দিন পর দীপাবলির উৎসব শুরু হয়।
এই বছর ১৪৩৩ সালের ২০ কার্তিক। ইংরেজি ৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ধনতেরস পালিত হবে। রাতে ধন ত্রয়োদশী। দ্বিতীয় দিন ২১ কার্তিক ১৪৩৩, ইংরেজি ৭ নভেম্বর ২০২৬ শনিবার ভূতচতুর্দশী হিসেবে পালিত হয়। গৃহস্থ বাড়িতে ১৪ ফোঁটা ও ১৪ প্রদীপ জ্বালানপ হয়। চতুর্দশ দীপ দান মন্ত্র— ‘নমঃ পিতৃভ্য প্রেতভ্য নমো ধর্মায় বিষ্ণবে।/ নমো ধূম্রায় রুদ্রায় কান্তারপতয়ে নমঃ।।’
প্রদীপ জ্বালিয়ে পিতৃপুরুষদের অনুষ্ঠানে পদার্পণ করার জন্য নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়, যাতে তাঁরা এই শুভ দিনে সবাইকে শুভাশিস জানিয়ে নিজেদের মোক্ষলাভের কামনা করেন।
তৃতীয় দিন, রবিবার ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ইংরেজি ৮ নভেম্বর ২০২৬। কার্তিক আমাবস্যার দিন ঘটি অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গবাসীরা বাড়িতে অলক্ষ্মীর বিদায় করে লক্ষ্মী পুজো করেন। দিবা ১১।২৮ গতে অক্ষয় স্নান। রাতে করতোয়া স্নান (গঙ্গা স্নান) স্নান মন্ত্র — করতোয়ে সদানীড়ে সরিচ্ছ্রেষ্ঠে সুবিশ্রুতে/পৌন্ড্রান্ প্লাবয়সে নিত্যং পাপং হর করদ্ভবে।।
গোস্বামী মতে শ্রী শ্রী ধর্মরাজ পূজা। চতুর্দ্দশ যমতর্পণম্। ভূত-চতুর্দ্দশী, নরক চতুর্দশী কৃত্যম। আচারাৎ চতুর্দ্দশ শাক ভক্ষণম্।
সন্ধ্যা ঘ ৪।৫৩ গতে রাত্রি ৬।২৯ মধ্যে শ্রীশ্রীমহালক্ষ্মী ও শ্রীশ্রী অলক্ষ্মীপুজো। দীপাবলি। কার্তিক অমাবস্যা। মধ্যরাতে কালী পুজো। নিশিথ কাল রাত্রি ঘ ১০।৫৬ গতে রাত্রি ঘ ১১।৪৪ মধ্যে শ্যামা পুজো। চতুর্থ দিন, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩। ইংরেজি ৯ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার। অমাবস্যার ব্রতোপবাস। দীপান্বিতা পার্বণশ্রাদ্ধম্। দীপান্বিতা কৃত্যম। গোবর্ধন পুজো ও পরিক্রমা, অন্নকূট মহোৎসব। প্রদোষে বলিদৈত্যরাজ পুজো। পঞ্চম দিন, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ইংরেজি ১০ নভেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার। দ্যূত প্রতিপদ, প্রাতঃ দ্যূতক্রীড়া। স্মার্ত মতে, পূর্বাহ্ন ঘ ৯।৩০ মধ্যে শ্রীশ্রী বলি দৈত্যরাজ পুজো। ২৫ কার্তিক ১৪৩৩ বুধবার। ইং ১১ নভেম্বর ২০২৬।
ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা, উৎসবের শেষ দিন। পুরাণ অনুযায়ী, এই দিন যমুনা তার ভাই যমকে ফোঁটা দিয়েছিলেন। আবার অন্য মতে, নরকাসুর নামে দৈত্যকে বধ করার জন্য কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে ফোটা নিয়েছিলেন।
এদিন নতুন জিনিস কেনার জন্য বিশেষ করে যেগুলি সম্পদ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত শুভ। সোনা-রুপোর গয়না, মুদ্রা কিনতে পারেন। সোনা এবং রুপা এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETFs) বা ওই ধাতুগুলি বৈদ্যুতিন আকারে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করতে পারেন। বিমা কিনতে পারেন।
বাড়ি কেনার জন্য ধনতেরস সবথেকে ভালো দিন। ব্যাংক, পোস্ট অফিসে ফিক্সড ডিপোজিট বা রিয়েল এস্টেট এর কথাও ভাবতে পারেন। কিনতে পারেন টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর ল্যাপটপ। তবে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র, ছুরি, কাঁচি, প্লাস্টিক ও কাচের পাত্র, তেল, ঘি কিনবেন না।
মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী, ঝাঁটা কিনতে পারেন। অনেক জায়গায় দেখা যায় এই দিন লক্ষ্মীর পাশে কেউ ঝাঁটা রেখেছেন। যদি ঝাঁটা কিনতে না পারেন তবে এই দিন অন্তত বাড়ির ঝাঁটাকে পা লাগাবেন না। রুদ্রাক্ষের মালা অথবা সাতমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ অত্যন্ত শুভ। স্ফটিকের মালা, পদ্মবীজের মালা অথবা কড়ি, দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ কিনে ঘরে আনা শুভ।
ঘরের ঠাকুরের জন্য কাঁসা, পিতলের বাসন, তামার ঘটি, প্রদীপ,তাম্র কুণ্ড, ঘণ্টা, লক্ষ্মী-গণেশের মুদ্রা বা ছবি কিনতে পারেন।
বাড়ির দক্ষিণ দিক মুখ করে প্রদীপ জ্বালান। এটি পরিবারের অকাল মৃত্যু এড়াতে সাহায্য করে। প্রদীপের চারটে মুখ থাকবে। চারদিকে চারটে পলতে দিয়ে প্রদীপ ধরাবেন। তিল তেলে প্রদীপে দেবেন সঙ্গে কিছুটা তিল দেবেন। কিছুটা গমের ওপরে প্রদীপটা জ্বালাবেন। লাল, হলুদ, কমলা রঙের পোশাক পরিধান করুন, কালো পোশাক এড়িয়ে চলুন। চুল না কাটাই বাঞ্ছনীয়। মাদক সেবন, পেঁয়াজ, রসুন খাবেন না, নিরামিষ আহার করুন। এই দিন সকল প্রকার ধার দেওয়া/ নেওয়া বন্ধ রাখুন। দান না করতে পারলে ভালো, সন্ধের পর ঘর ঝাঁট বা মোছামুছি করবেন না। কাউকে চিনি দেবেন না। চিনি দেবীর প্রিয় জিনিস এতে দেবী অসন্তুষ্ট হন। বাসন ও অলংকার ধার দেওয়া অথবা নেওয়া করবেন না। সন্ধের পর ঘরে কোনো এঁটো বাসন রাখবেন না।
এবার আসা যাক কোন রাশির জাতক কী কিনবেন?
মেষ রাশি: গুরুজনদের জন্য পোশাক ও মিষ্টি নিন। গাড়ি-বাড়ির জন্য অর্থ বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারেন। ধর্ম পুস্তক কিনুন।
বৃষ রাশি: রুপোর দেব দেবীর মূর্তি কিনুন। ভাইয়ের জন্য উপহার নিন, সাদা/ হলুদ বস্ত্র কিনুন। অনাথ শিশুদের জন্য কিছু দান সামগ্রী কিনতে পারেন। রুপোর বাসন/ ঠাকুরের জিনিস কিনতে পারেন।
মিথুন রাশি: বাড়ির বাচ্চাদের জন্য পোশাক, সাদা/ সবুজ রঙের বস্ত্র, মুক্তো কেনা শুভ জনক। মাছের জন্য খাবার, শিশুদের উপহার, সবুজ রত্ন পান্না ধারণ করা যেতে পারে।
কর্কট রাশি: মায়ের জন্য বস্ত্র ও উপহার কিনুন। লাল/ সাদা বস্ত্র পরিধান করতে পারেন। লোককে উপহার হিসেবেও দিতে পারেন। জমি কেনা শুভ। জলজ প্রাণীদের জন্য খাবার কিনতে পারেন।
সিংহ রাশি: পিতার জন্য উপহার ও মিষ্টি ঘরে আনুন। লাল বস্ত্র, ঠাকুর ঘরের সামগ্রী, ঘর সাজাবার উপকরণ, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যাদি, রেশম/পশমের বস্ত্র ধারণে শুভ ফল পাওয়া যায় ।
কন্যা রাশি: রুপোর শিব/ বিষ্ণু মূর্তি, সাদা/ সবুজ বস্ত্র, বাড়ির বাচ্চাদের জন্য উপহার, মা কালীর মন্দিরে নারকেল অর্পণ করুন।
তুলা রাশি: নিজের/ পরিবার সন্তানের নামে মন্দিরে পুজো দিন। সাদা বস্ত্র পরিধান শুভজ্ঞাপক। দেবাদিদেব মহাদেবের জন্য কিছু কিনুন, রুপোর বেলপাতা, রুপোর সাপ বা রুপোর মহাদেবের মূর্তি, লকেট কিনতে পারেন। রুদ্রাক্ষ কিনতে পারেন। পুজোর দিন কুবেরের জন্য হলুদ মিষ্টি ঠাকুরকে অর্পণ করুন।
বৃশ্চিক রাশি: দীক্ষা হয়ে থাকলে গুরুদেবকে দক্ষিণা দিন, পিতা/ গুরুজন স্থানীয় ব্যক্তিদের কিছু উপহার দিন। বিদ্যালয়ের জন্য পুস্তক, বাচ্চাদের পোশাক দিন।
ধনু রাশি: মা লক্ষ্মীর পুজো করুন। সোনা কেনা অত্যন্ত শুভ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করতে পারেন। জমি, রিয়েল এস্টেট ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ শুভ কারক।
মকর রাশি: মাছ তথা জলজ জীবদের খাবার দিন। মা নর্মদার উদ্দেশে পুজো দিন। নর্মদেশ্বর শিবকে বেলপাতা প্রদান করুন। রুদ্রাক্ষ/ স্ফটিকমালা কিনতে পারেন।
কুম্ভ রাশি: বৃদ্ধদের ফলমূল, মিষ্টি, পোশাক সাধ্যমতো দান করুন। কালীমন্দিরে পুজো দিন। শিবের জন্য রুপোর বেলপাতা, রুদ্রাক্ষ, স্ফটিকের মালা কিনতে পারেন।
মীন রাশি: জলজ প্রাণীদের খাবার দিন। জমি বাড়ির জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। দেবী লক্ষ্মীর পুজো দিন। এই দিন কোনোভাবে মাতৃজাতির অপমান করবেন না। যেহেতু নারী জাতি মা লক্ষ্মীর প্রতীক তাঁদের অপমান করলে দেবী রুষ্ট হন।
কেনাকাটার নির্ঘণ্ট
বর্তমানে বাংলায় বহুল প্রচারিত যে সব পঞ্জিকা আছে তার মধ্যে বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে—
এই বছর অর্থাৎ ২০ কার্তিক শুক্রবার ১৪৩৩, ইংরেজি ৬ নভেম্বরর ২০২৬ ত্রয়োদশী তিথি সকাল ১০।৩১ মিনিটে শুরু হবে এবং ৭ নভেম্বর সকাল ১০।৪৮ পর্যন্ত থাকবে। ধনতেরসের পুজোর শুভ মুহূর্ত সকাল ১১।৪২ থেকে দুপুর ২।৪০ পর্যন্ত। আবার দুপুর ৩।২৪ থেকে অস্তাবধি। রাত্রি ৫।৪৫ গতে ৯।১২ মধ্যে। পুনঃ ১১।৪৬ গতে ৩।১২ পর্যন্ত। এই দিন দেবী লক্ষ্মী কুবেরের ও বিষ্ণু পুজো করার শুভ সময় সন্ধ্যা ৬।০২ থেকে রাত ৭।৫৭ পর্যন্ত (বৃষভ কাল)।
যম দীপ দানের শুভ সময় শুক্রবার বিকেল ৫।৪০ থেকে সন্ধ্যা ৭ টা ১০ মধ্যে।
৭ নভেম্বর দিবা ৭ টা ০১ গতে ১০।৪৮ মধ্যে ও ১১:৪৮ গতে ও ২। ৩৯ মধ্যে। আবার রাত ২।২২ গতে ৩।১৩ মধ্যে ।
৮ নভেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ৬।৩৩ গতে ৮টা ৪৫ মধ্যে আবার সকাল ১১টা৪২ মিনিট থেকে ২টো ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। রাত্রি ঘণ্টা ১১।৪৬ গতে রাত ১টা ৩০ মধ্যে পুনঃ রাত ২।২২ গতে উদয়াবধি ।
দিবা ৯টা৫৮ থেকে ১২টা ৪৩ বার বেলা। রাত্রি ১২টা ৫৭ থেকে ২টো ৩৫মিনিট পর্যন্ত কালরাত্রি।
৯ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার বাংলায় ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ৭।১৭ মধ্যে, পুনঃ ৮।৪৫ থেকে ১০:৫৮ মধ্যে পুনরায় সন্ধ্যা ০৭:২৮ থেকে১০ টা ৫৫ মধ্যে, পুনঃ ২:২২ থেকে রাত ৩।১৩ মধ্যে
৭টা ১২ গতে ৮:৩৫ মধ্যে পুনঃ ০২:০৬ গতে ০৩:২৯ পর্যন্ত বার বেলা।