


শিশির ঘোষ: ডালাসেও মেসি-ম্যানিয়া। বাঁ পায়ের জাদুকরকে থামায় সাধ্য কার! মিরোস্লাভ ক্লোজেকে (১৬) টপকে গোলের এভারেস্টে এলএমটেন। মেসির জোড়া লক্ষ্যভেদেই অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে চলতি কাপযুদ্ধের নক-আউটে পৌঁছাল আর্জেন্তিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সর্বাধিক গোলদাতা লিও মেসিই। নামের পাশে ১৮টি লক্ষ্যভেদ। এবার আমি তাকিয়ে এমবাপের দিকে। মেসিকে এই মুহূর্তে তাড়া করছে ফরাসি তারকা।
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দলে একটিই পরিবর্তন করেছিলেন আর্জেন্তিনার কোচ স্কালোনি। রাইট উইং ব্যাকে নাহুয়েল মোলিনাকে শুরু থেকেই খেলালেন তিনি। ম্যাচের শুরুতেই চমক। ৩ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজকে রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসে অস্ট্রিয়া রক্ষণ। এক্ষেত্রে ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন মিশরের রেফারি। স্পটকিক নিতে এগিয়ে যায় মেসি। গোল হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে বাইরে মারল মেগাস্টার। পাঠক, পেনাল্টি নষ্টের পরের মুহূর্ত খেয়াল করুন। মেসির ঠোঁটে চিলতে হাসি। হয়তো সে ভাবছিল, এমন মিস হল কী করে! তবে এ তো নতুন নয়। সাড়ে তিন বছর আগে কাতারে পোল্যান্ডের বিপক্ষে স্পটকিক জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছিল লিও। ২০১৮ সালে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধেও জাল কাঁপাতে পারেনি। যাই হোক, ফুটবলে এমনটা হয়েই থাকে। সুযোগ এসেছিল এরপরেও। মেসির ডানপায়ের টোকা অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক রুখে দেয়। ৩৮ মিনিটে ছবির মতো মুভমেন্টে এল প্রতীক্ষিত গোল। মেডিনার মাইনাস চমৎকার ফলস দেয় থিয়াগো আলমাডা। অরক্ষিত মেসি বাঁ পায়ের আলতো ইনস্টেপে জাল কাঁপাল (১-০)। অস্ট্রিয়া গোলরক্ষক বোঝার আগেই বল জালে। নিখুঁত পরিকল্পনার ফসল এই দুর্দান্ত গোল। মেসির ছোঁয়ায় তা পূর্ণতা পেল। ম্যাজিশিয়ান যেন আদর করল বলকে। দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস ওটামেন্ডি, নিকোলাস গঞ্জালেজ ও জুলিয়ান আলভারেজকে মাঠে নামান স্কালোনি। সংযোজিত সময়ে আলভারেজ মিস করার পর ফিরতি বল জালে জড়াল লিও (২-০)। গ্রুপে দু’ম্যাচে ৫টি গোল করল আর্জেন্তিনা। আর সবগুলোই সেই মেসির!