


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরের তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মন-থা’ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা-রাতের দিকে উত্তর অন্ধ্র উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করবে। তার ফলে এরাজ্যেও বৃষ্টি বাড়বে। আগেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে আবহাওয়াবিদরা বেশি চিন্তায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের হিমালয় এলাকায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।
আগামী শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। তাই সোমবারের জন্য ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও হিমালয় লাগোয়া এলাকাসহ উত্তরবঙ্গের কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নীচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া এবং পাহাড়ে ধস নামার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের কোথাও অতিবৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা আবহাওয়া দপ্তর দেয়নি। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার কিছু স্থানের জন্য ভারী বৃষ্টির ‘হলুদ’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গোটা রাজ্যেই বায়ুমণ্ডলে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে। তবে উত্তরবঙ্গে পাহাড় থাকার জন্য জলীয় বাষ্প সেখানে ধাক্কা খেয়ে অধিক শক্তিশালী বৃষ্টির মেঘ তৈরি করবে। এমন সম্ভাবনা থাকছে।
৩-৪ অক্টোবর অতিবৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া এলাকায় যে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয় তার মূলে ছিল বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি অতিগভীর নিম্নচাপ। উত্তর অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ ওড়িশার গোপালপুর লাগোয়া এলাকা দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করেছিল ওই শক্তিশালী নিম্নচাপটি। তারপর এটি স্বাভাবিক নিয়মে দুর্বল হলেও নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর চলে আসার পর বিহারের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের হিমালয় এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। এবারও ঘূর্ণিঝড় স্থলভূমিতে প্রবেশের পর তার সম্ভাব্য গতিপথ থেকে আবহাওয়া দপ্তরের অনুমান, উত্তরবঙ্গের ওই অংশের পাশপাশি বিহারেও বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, মন-থা উপকূল অতিক্রম করার পরেই যদি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি পালটাবে। তখন বৃষ্টি কমতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভবনা কম। আপাতত দেখা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা উত্তর ঘেঁষে এগোবে। স্থলভূমিতে প্রবেশের পর বুধবার এটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে ছত্তিশগড়ের উপর থাকবে। সমুদ্রের মধ্যে শক্তিশালী নিম্নচাপ থাকার সময় এর অভিমুখ ছিল পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে। রবিবার বেশি রাতের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর এটি অভিমুখ কিছুটা পালটে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আজ মঙ্গলবার অন্ধ্রের কাকিনাড়ার আশপাশ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আগে এটির অভিমুখ এরকমই থাকবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। স্থলভূমিতে প্রবেশের পর অভিমুখ কী হবে, তা আবহাওয়া দপ্তর সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জানায়নি। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি যত উত্তর দিকে ঘেঁষবে তত রাজ্যে বৃষ্টির বিপদ বাড়বে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় যত উপকূলের কাছে আসবে তত এর বাইরের প্রান্ত থেকে কিছু মেঘ রাজ্যের উপকূলের কাছাকাছি চলে আসবে। তাই আজ মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের উপকূল লাগোয়া ও কাছাকাছি এলাকায় এর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোনও কোনও স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রাম জেলার কিছু অংশে।