


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়েক দশক ধরেই শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের বড় আস্তানা আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। চিত্তরঞ্জনের লেক বা বার্নপুরে দামোদরের চর রিভারসাইড এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির দেখা পাওয়া যেত। করোনাকালেও ব্যাপক পাখির আগমন ঘটেছিল। কয়েক বছরের মধ্যে চিত্র পাল্টে গিয়েছে। কোথাও লেক মাছ চাষের জন্য লিজে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিযায়ী পাখি বসার জো নেই। অন্যদিকে, দামোদর নদজুড়ে চলছে বালি তোলার ‘মহাযজ্ঞ’। নদীর চরেও পাখিরা নিরিবিলি জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। যার জেরে শিল্পাঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়েছে পক্ষীকূল। হতাশ পরিবেশপ্রেমীরা।
মরুভূমির মরিচিকার মতোই আশার ক্ষীণ আলো জ্বেলে রেখেছে কেন্দ্রীয় সংস্থার সংরক্ষিত এলাকা। বার্নপুরে ইস্কোর কারখানার ভিতরে বিশাল ছাইপুকুর রয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো সেখানে পাখি এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তেমনই কুলটিতেও ইস্কোর ওয়াটার ট্যাঙ্ক এলাকায় প্রচুর পরিযায়ী পাখি এসেছে। অনেকের দাবি, সংরক্ষিত এলাকা ও নজরদারি থাকায় নিরাপদে আছে পাখিরা। না হলে সেখান থেকে তাদের শীতকালীন বাসস্থান গুটিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে হতো।
পরিযায়ী পাখিদের সবচেয়ে বড় বাসস্থান ছিল রেল শহর চিত্তরঞ্জন। বৃত্তাকার পরিকল্পিত এই শহরকে লেকের শহর বললেও ভুল হয় না। শহরজুড়ে রয়েছে বিশালাকার একাধিক লেক। যা শহরকে শীতল রাখার পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্যেব বড় সমাহার। এখানেই শীতকালে কয়েকশো প্রজাতির হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত। কয়েক বছর ধরে লেকগুলি পরিষ্কার না হওয়ায় কচুরিপানায় ভরে গিয়েছিল। তাতেও পাখিরা এসেছিল। পক্ষীপ্রেমীরা লেক পরিষ্কারের দাবি তুলেছিলেন। রেলমন্ত্রক লেক পরিষ্কার করিয়েছে। অনেকেই আশা করেছিলেন এবার বহু পাখির সমাহার হবে। কিন্তু তার উল্টো চিত্রই ধরা পড়েছে। লেকগুলিতে খুব কম সংখ্যক পরিযায়ী পাখি এসেছে।
পরিযায়ী পাখি গণনার কাজ শুরু করেছে বনদপ্তর। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই তারা এই কাজ করছে। তারা পক্ষী সুমারি করতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লেকগুলি মাছ চাষের জন্য বরাত দিয়ে দিয়েছে সিএলডব্লু প্রশাসন। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে লেকে মাছ চাষের বরাত পেয়ে যথেচ্ছভাবে রাসায়নিক প্রয়োগ করছে ব্যবসায়ীরা। জেলেরা নৌকা নিয়ে সর্বক্ষণ লেকের এবার ওপার করে বেড়াচ্ছেন মাছ ধরার জন্য। জলের মান খারাপ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও নজরদারি না থাকায় পাখি ধরার ফাঁদও পাতা হচ্ছে। যার ফলে চিত্তরঞ্জনে আরও সুরক্ষিত নয় পরিযায়ী পাখিরা। বিষয়টি নিয়ে সিএলডব্লু জনসংযোগ আধিকারিক চিত্রসেন মণ্ডলকে ফোন করা হলেও তিনি না ধরায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
দামোদরের বার্নপুর রিভার সাইড আরও একটি পরিযায়ী পাখিদের ডেরা ছিল। পক্ষী গণনার কাছে যুক্ত সংস্থার সদস্যদের দাবি, সেই ঠিকানাও হারিয়ে গিয়েছে। নদী থেকে মেশিন দিয়ে বিপুল বালি তোলা হচ্ছে। নদজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে দৈত্যাকার লরি, ডাম্পার। নদজুড়ে দক্ষযজ্ঞ চলায় পাখিরা মুখ ফিরিয়েছে। এখন ইস্কোর জলাধারগুলিই পাখিদের আশ্রয়। ডিএফও অনুপম খান বলেন, সম্পূর্ণ রিপোর্ট পেলেই এনিয়ে মন্তব্য করতে পারব। প্রয়োজন হলে আমরা সিএলডব্লু প্রশাসনকে চিঠি দেব।