


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: একসময় রেষারেষির লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। থিম, মণ্ডপ, আলোকসজ্জা থেকে বাজেট-কোনো কিছুতেই একে অপরকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ত না। তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতার পুজো হিসাবেই পরিচিত ছিল মিলনপল্লি সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবং যুবকবৃন্দের পুজো। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে সেই ছবিও। একসময়ের জাঁকজমক এখন অনেকটাই ম্লান। কোথাও পুজোর পরিসর ছোটো হয়েছে, কোথাও আবার নতুন মুখের হাত ধরে পুরনো প্রতিযোগিতাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
স্টেশন ফিডার রোডের একপাশে যুবক বৃন্দের পুজো দীর্ঘদিন তৃণমূল নেতা তথা শিলিগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান জয়ন্ত ওরফে যতন সাহার পুজো হিসাবেই পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, রাস্তার বিপরীতে প্রায় মুখোমুখি মিলনপল্লি সর্বজনীন পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি নির্ণয় রায় ওরফে পচা। ফলে দুই পুজোর আয়োজন ঘিরে শহরবাসীর আগ্রহও ছিল যথেষ্ট।
এবার অবশ্য যুবকবৃন্দের পুজোয় সেই জৌলুস নেই। যতন সাহার বক্তব্য, আমি কোনোদিনই কাগজে-কলমে পুজো কমিটিতে ছিলাম না। বাইরে থেকেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তাঁর দাবি, ব্যবসায় মন্দার কারণে এবার শহরে চাঁদা তোলা কঠিন হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই পুজোর আয়োজন ছোটো করা হয়েছে। তবে পুজোয় মানুষের অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মিলনপল্লি সর্বজনীন পুজো কমিটিতে এবার ছবিটা একেবারেই আলাদা। পুরনো উদ্যোক্তাদের ছাপিয়ে নতুন মুখের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে বড়ো আয়োজন। ফোম, প্লাইবোর্ড ও মাটির কাজে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা শিল্পনকশা। গণেশ, বিষ্ণু সহ বিভিন্ন মূর্তির ব্যবহারে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। পুজো কমিটির এবারের থিমের নাম ‘তাণ্ডব’। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রিয়ম রায় বলেন, আমরা তাণ্ডব থিমে পুজো করছি, এটুকুই বলা সম্ভব। পুরো বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাই না। অন্য কেউ যাতে নকল করতে না পারে, তাই পরিকল্পনা গোপন রাখা হয়েছে।
তবে নির্ণয় রায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে কমিটির কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না। যদিও নির্ণয় রায়ের বক্তব্য, আমি পুজোয় আছি। তবে প্রত্যেকবারই সভাপতি বা সম্পাদক থাকব, তার তো কোনো মানে নেই। নতুনদের জায়গা দিতে হয়, তাই এবার দায়িত্ব ছেড়েছি। তবু মিলনপল্লিতে কান পাতলেই অন্য কথাও শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুজো কমিটিগুলির চরিত্রেও বদল এসেছে কি না, তা নিয়েই চলছে জোর চর্চা। পুরনো নেতৃত্বের জায়গায় নতুনদের উত্থান এবং পুজোর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে নতুন সমীকরণ-এবারের এই দুই পুজো যেন সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।