


সংবাদদাতা, লালবাগ: বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। পরিবার বিয়ে দিয়ে এক বছর আগেই। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হতেই কঠোর পদক্ষেপ নেয় নবগ্রাম থানার পুলিস। নাবালিকা বধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি সিডব্লুসির অভিযোগের ভিত্তিতে তার ‘স্বামী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, সিডব্লুসি শুক্রবার নবগ্রাম থানায় উভয়(বর ও নাবালিকা) পরিবারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। নাবালিকাকে হোমে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে নবগ্রাম থানা এলাকার ওই নাবালিকার সঙ্গে পাশের গ্রামের এক যুবকের সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। খুব গোপনীয়তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবারের লোকজন। পুলিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নজর এড়িয়ে যায়। সম্প্রতি নবগ্রাম থানার পুলিস নাবালিকা বিয়ের বিষয়টি জানতে পারে। শুক্রবার বিকেলে পুলিস শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে। পরে সিডব্লুসির প্রতিনিধিরা নবগ্রাম থানায় পৌঁছলে তাঁদের হাতে ওই নাবালিকা বধূকে তুলে দেওয়া হয়। সিডব্লুসির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। বাল্যবিবাহ আটকানো হচ্ছে। আবার বিয়ে হয়ে যাওয়া নাবালিকাদেরও উদ্ধার করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিমন্ত্রিতদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হচ্ছে। কেউ রেহাই পাবে না। মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্পূর্ণভাবে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সঙ্কল্প নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে সিডব্লুসি, প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, বাল্যবিবাহ রোধে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। দিন কয়েক আগে কান্দি মহকুমা এলাকায় নাবালিকার বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিস নববধূকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি বর সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এক আধিকারিক বলেন, ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিলে নাবালিকার বড় ক্ষতি হতে পারে। এবিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। বর্তমানে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাল্যবিবাহ রোখাই আমাদের লক্ষ্য।