


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক গ্রাস করেছে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহকে। সেই ভয়ের বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনীর কাছে। সেই কারণেই পুলিশের মাধ্যমে এই হিংসা ও দমনপীড়ন। দেশের নারী, যুব, ছাত্রদের উপর নেমে আসছে অত্যাচার। এসবই হল আতঙ্কের প্রকাশ। শনিবার এই মন্তব্য রাহুল গান্ধীর। তাঁর হুঁশিয়ারি, দিল্লি পুলিশ কিন্তু সব সীমা ছাপিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র, নারীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ করতে তাদের উপর যৌনলাঞ্ছনা করা হচ্ছে। পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। গোপনাঙ্গে আঘাত করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা লজ্জার সব সীমা পার করেছে। সরাসরি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নাম করে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক মন্তব্য, উপরতলার কয়েকজনের নির্দেশে পুলিশ এভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে। কারণ তাঁরা পুলিশকে বলছেন, আমরা ক্ষমতাচ্যুত হতে পারি। তাই তোমরা যেভাবে হোক আন্দোলনকে দমাও। রাহুল বলেন, পুলিশ তো চাকরি করে! তারা কী করবে! অতএব তারা অমানবিক অত্যাচার চালাচ্ছে। কিন্তু এভাবে টিকে থাকা যাবে না। রাহুলের দাবি, এই সরকার ক্ষমতচ্যুত হবেই!
রাহুলের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ জানেন, যেদিন তাঁদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাবে, সেদিনই তাঁদের কাহিনি শেষ। তিনি বলেন, আমার কোনও ভয় নেই। আমি ভোটে হেরে যাই, জিতে যাই, যাই হোক না কেন, আমি এমন কিছু অপরাধ করিনি যে, আমাকে জেলে যেতে হবে। কিন্তু মোদি এবং শাহ জানেন যে, তাঁদের ভাগ্যে কী আছে ক্ষমতাচ্যূত হলে। আর তাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তাঁরা কাঁপছেন।
দিল্লিতে কখনও ককরোচ জনতা পার্টির যন্তরমন্তর অভিযান, কখনও ইন্ডিয়া জোটের নির্বাচন সদন অভিযান, কখনও সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একের পর এক কর্মসূচিতে বারংবার সবথেকে বেশি যে অভিযোগ উঠছে সেটি হল, পুলিশের অতি সক্রিয়তা, দমনপীড়ন এবং অগণতান্ত্রিক আক্রমণ। জুলাই মাসের প্রথম যন্তরমন্তর অভিযানে প্যালেট গান পর্যন্ত চালিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। সেটি ছিল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ইস্যু। এবার দিল্লিতে শুরু হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন। এবারও সেই একই অভিযোগ। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যথেষ্ট আটক করছে, টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তুলছে, বহু দূরে গিয়ে নামিয়ে দিচ্ছে অথবা আটকে রাখছে থানায়। মারধর তো আছেই। শনিবার এরকমই কিছু বিক্ষোভকারী তরুণীর সঙ্গে রাহুল গান্ধী কথা বলেন, যাদের অভিযোগ যে, তাদের উপর পুলিশ অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে। সেই কথোপকথনের ভিডিওতে দেখা যায় রাহুল এই বিক্ষোভকারীদের বলছেন, সব অত্যাচারের প্রমাণ, ছবি, ভিডিও, ফুটেজ আমাদের দিন। আমরা এই সব সংগ্রহ করে রাখছি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাহুল বলেন, আপনারা থামবেন না। সংগ্রাম চালিয়ে যান। চিন্তা করবেন না। এই শাসক কিন্তু যাচ্ছেই!