


নয়াদিল্লি, ৩০ অক্টোবর: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও মজবুত করতে বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এবার ভারতীয় নৌসেনার জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচে আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রকল্পে ছাড়পত্র দিল ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা সিসিএস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলির কয়েকটি তৈরি হবে কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সে বাকি জাহাজ তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
বুধবার সিসিএস -এর বৈঠকে এই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ স্তরে অনুমোদন পাওয়া অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প এটি। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বাড়বে, তেমনই দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পও বড়োসড়ো গতি পাবে।
জানা গিয়েছে, প্রতিটি করভেটের ওজন হবে প্রায় দুই হাজার টন। ঘণ্টায় প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে থাকবে অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি। ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি হবে এই জাহাজগুলি। শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা না পড়ার পাশাপাশি জল, স্থল ও আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারবে এই বিধ্বংশী জাহাজগুলি। পাশাপাশি অ্যান্টি সারফেস, অ্যান্টি সাবমেরিন এবং অ্যান্টি এয়ার ওয়ারফেয়ারের পাশাপাশি উপকূলীয় নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে নজরদারি এবং উদ্ধারকার্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই অত্যাধুনিক জাহাজগুলি।
এই প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব হল, এতে ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করা হবে। ফলে আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পেও গতি আসবে বেল আশা। সেইসঙ্গে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাও উপকৃত হবে। তৈরি হবে হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। এই প্রকল্প অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম করভেট নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।