


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভোটমুখী বাংলায় ‘স্পেশাল’ কিছু উপহার দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! শনিবার ব্রিগেড সমাবেশে তাঁর বক্তব্যে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি দলের নেতা এবং কর্মীদের। অনেকেই ভেবেছিলেন, বাংলার জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়তো বড়ো কিছু ঘোষণা করবেন। সেটা তো হলই না, উলটে চালু হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলি ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ফের উদ্বোধন করে বিতর্কে জড়ালেন তিনি। সেই তালিকায় অন্যতম পানাগড় থেকে পালসিট পর্যন্ত ৬ লেন রাস্তা, ভেদিয়ায় জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হওয়া রেল ওভারব্রিজ, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বারওয়া আড্ডা থেকে পানাগড় পর্যন্ত ছ’লেনের রাস্তা, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে তৃতীয় রেললাইন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই রাস্তা ও ট্রেন লাইন দিয়ে যান চলাচল বহু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আসলে সবটাই ভোটের আগে ভাঁওতা। যদিও ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ভোটের ‘গিমিক’ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বারবার সদর্পে ঘোষণা করতে শোনা গিয়েছে, ‘কত টাকার উপহার পেল বাংলা? ১৮ হাজার ৫০০ কোটি! কত কোটি? ১৮ হাজার, কত কোটি? ১৮ হাজার!’
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বারওয়া আড্ডা থেকে পানাগড় পর্যন্ত শাখার ছ’লেনের রাস্তা এদিন উদ্বোধন করেছেন মোদি। এই রাস্তাটি বাংলা-বিহার সীমান্তের ডুবুলডিহি চেকপোস্ট, কুলটি, আসানসোল, রানিগঞ্জ, অণ্ডাল, দুর্গাপুর হয়ে পানাগড়ে গিয়েছে। সেটি সম্প্রসারণ করে ছ’লেন হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে। এতদিনে সেই রাস্তার উদ্বোধনে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘জাতীয় সড়কের নামটাই পরিবর্তন হয়েছে। সম্প্রসারণের কাজ তো বহু বছর আগে হয়ে গিয়েছে। আসলে পুরানো রাস্তাগুলিকে নতুন সড়কের উদ্বোধন বলে দেখানো হচ্ছে।’ তাঁর কটাক্ষ, এবার তো শেরশাহের তৈরি জিটি রোড তৈরির কৃতিত্বও বিজেপি নেবে!
ভেদিয়ায় জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হওয়া রেল ওভারব্রিজের উদ্বোধনও এদিন প্রধানমন্ত্রী করেছেন। সেটিও ছ’মাস আগেই চালু হয়ে গিয়েছে। চালু হয়ে গিয়েছে সংযোগকারী রাস্তাও। ভেদিয়ায় বাসিন্দা তথা তৃণমূল নেতা শান্তা রায়চৌধুরী বলেন, ‘এই সব কিছু বিজেপি’র ভাঁওতাবাজি। ভোটের আগে এসব নাটক করে ভাবছে মন জয় করবে। সেটা হবে না।’
কয়েক মাস আগেই বেলদা ও দাঁতনের মাঝে তৃতীয় লাইন তৈরি হয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। এই লাইন দিয়ে নিয়মিত ট্রেন যাতায়াত করে। গোটা প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৬২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনও এদিন করেছেন মোদি। এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খড়্গপুর-মোড়গ্রাম ইকনমিক করিডর, কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর সেতুর ঘোষণা আগেই করা হয়েছিল। ভোট আসতেই ফের ঘটা করে শিলান্যাস হল এই প্রকল্পগুলোর।
আবার খড়্গপুর থেকে মোড়গ্রাম—শনিবার মহাসমারোহে এই সড়কের ফোর লেনের কাজের শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন জেলায় এর জন্য জমি অধিগ্রহণ হলেও, বীরভূমে এসে কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে। সেকথা অবশ্য মোদি জানেন কি না সন্দেহ!