


নয়াদিল্লি: ভারতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এর অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’ হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে মঙ্গলবার একে অপরের দিকে দায় ঠেলাঠেলি শুরু করে ভারত সরকার ও এক্স কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে দিনভর সরগরম ছিল গোটা দেশ। এলন মাস্কের মালিকানাধীন মাইক্রোব্লগিং সাইটির দাবি, গত ৩ জুলাই ভারত সরকারের নির্দেশেই রয়টার্স সহ ২ হাজার ৩৫৫টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছিল। বাধ্য হয়েই তারা সেই নির্দেশ পালন করেছে। না হলে আইন অনুযায়ী তাদের জরিমানার মুখে পড়তে হতো। শুধু তাই নয়, ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলে এক্স। যদিও পাল্টা কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়, ৩ জুলাই নতুন করে এমন কোনও নির্দেশ জারিই করা হয়নি। উল্টে নয়াদিল্লির তরফে বারবার আর্জি জানানো হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অ্যাকাউন্টগুলি চালু করে এক্স কর্তৃপক্ষ।
গত ৬ জুলাই রয়টার্সের মূল এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ‘রয়টার্স ওয়ার্ল্ড’ অ্যাকাউন্টটি ভারতে অ্যাক্সেস করা যাচ্ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ তকমা দিয়ে সমালোচনায় সরব হন অনেকেই। এরপর ৭ জুলাই রাতে অবশ্য স্বমহিমায় ফেরে অ্যাকাউন্টগুলি। মঙ্গলবার ‘এক্স’-এর গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স টিম সমাজমাধ্যমের পোস্টে লেখে, ‘তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সরাসরি নির্দেশেই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করা হয়েছিল। কোনও কারণও বলা হয়নি। ১ ঘণ্টার মধ্যে সেই নির্দেশ পালনের কথা জানায় মন্ত্রক। সেই সঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হয়, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি যেন ফেরানো না হয়।’ পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে এই নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি। ফলে তা পালন না করলে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল আমাদের।’ এরপরই সরাসরি ভারত সরকারকে একহাত নিয়ে তারা লেখে, ‘ভারতের মাটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এইধরনের নির্দেশ জারি আসলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকেই মান্যতা দিচ্ছে। যেসমস্ত ব্যবহারকারী এর জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদের আমরা আইনি সমাধানের পথ খোঁজার আবেদন জানাচ্ছি।’
এক্স কর্তৃপক্ষের এহেন আক্রমণের মুখে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। তথ্যুপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে জানান, গত ৩ জুলাই এমন কোনও নির্দেশ দেওয়াই হয়নি। সরকারের তেমন কোনও অভিপ্রায়ও ছিল না। বরং এই অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার কথা জানতে পেরে দিল্লিই তড়িঘড়ি ‘এক্স’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলি ‘আনব্লক’ করতে বলে। ৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে লাগাতার এবিষয়ে এক্স-এর কাছে তদ্বির করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু, প্রযুক্তিগত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে তা করছিল না মাইক্রোব্লগিং সাইটটি। শেষপর্যন্ত ৬ জুলাই রাত ৯টায় অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় চালু হয় বলে দাবি করেন ওই মুখপাত্র।
এবারই প্রথম নয়। অতীতেও একাধিরবার ভারত সরকারের এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার প্রবণতা নিয়ে সরব হয়েছে এক্স কর্তৃপক্ষ। গত মার্চেই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিল মাস্কের সংস্থাটি।