


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আট বছরের শিশুকন্যার সামনেই মাকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে বাবা ও তার দাদার বিরুদ্ধে। সোমবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার জগাছা থানার ইছাপুরে। মৃত গৃহবধূর নাম সুলেখা জয়সওয়াল (৩৮)। প্রতিবেশীরা বাড়ির ভিতর থেকে শিশুকন্যার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিস এসে বাড়ি থেকে দেহটি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত স্বামী জিতেন্দ্রনাথ জয়সওয়াল ও ছেলে শেখর জয়সওয়ালকে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছাপুর উত্তর-পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা সুলেখাদেবী স্বামী ও পুত্র-কন্যাকে নিয়ে থাকতেন। পরিবারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হতো। সোমবার সন্ধ্যায়ও একপ্রস্থ অশান্তি হয়। আশপাশের বাসিন্দারা সেই ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। আর পাঁচটা দিনের মতো ঝগড়া ভেবে কেউই গুরুত্ব দেননি। গভীর রাতে ওই বাড়ি থেকে শিশুকন্যার বুক ফাটা কান্না শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের কথায়, ‘বাচ্চা মেয়েটি চিৎকার করে কাঁদছিল। হিন্দিতে বারবার বলছিল, মা চোখ খোল, চোখ খোল। তখনই সন্দেহ হয় আমাদের।’ সঙ্গে সঙ্গে আমরা জগাছা থানায় ফোন করে বিষয়টি জানাই। পুলিস এলে স্বামী নিজেই দরজা খুলে দেন। ঘরে ঢুকে পুলিস ও স্থানীয়রা তাজ্জব বনে যান। তাঁরা দেখেন, মেঝেতে পড়ে রয়েছে সুলেখাদেবীর দেহ। পাশে বসে অঝোরে কেঁদে চলেছে তাঁর আট বছরের শিশুকন্যা। নির্বিকার হয়ে পাশে বসে ছেলে শেখর।
পুলিস ও স্থানীয়রা কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে শিশুকন্যাটি বাবা ও দাদার দিকে আঙুল উঁচিয়ে জানায়, ওরাই মাকে গলা টিপে খুন করেছে। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুকন্যাকে থানায় নিরাপদ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানিয়েছে, পেডেস্টাল ফ্যান কেনা নিয়ে বাড়িতে অশান্তি চলছিল। তার জেরেই কি এই খুন? শিশুকন্যার কথায়, মায়ের হাত দু’টি চেপে ধরেছিল বাবা। আর দাদা গলা টিপে খুন করে মাকে। শুধু পারিবারিক অশান্তিকে ঘিরে বাবা ও ছেলে কি খুন করতে পারে সুলেখাদেবীকে, এ নিয়ে ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা। ফলে ওই গৃহবধূর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। যদি তা সত্যি হয়, সেক্ষেত্রে হয়তো সেই সম্পর্ককে স্বামী ও ছেলে মেনে নিতে পারেনি। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘এই খুনের পিছনে অন্য কোনও রহস্য থাকতে পারে। সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুকন্যাটির জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে এদিন হাওড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। -নিজস্ব চিত্র