


সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: শিশুদের ঝামেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে বচসা। সেটাই মুহূর্তে রূপ নিল ভয়াবহ সংঘর্ষের। তলোয়ারের কোপে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। গুরুতর আহত হয়েছেন সাতজন। থানায় অভিযোগ হতেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা ও মাতব্বরদের উস্কানিতে এই হত্যার অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইরা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শাহাজাহান মিঞা। তাঁর বাড়ি সাইরা গ্রামে। তিনি ফেরিওয়ালা ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী পাঁচ ভাই রাজিক মিঞা,তফাজুল মিঞা,উমেদ মিঞা, মাবুল মিঞা ও সারবার মিঞা সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে। সন্ধ্যায় শাহজাহানের সাত বছরের ছেলে রাস্তার ধারে আতশবাজি পোড়াচ্ছিল। তার ফুলকি পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী তফাজুলের বাড়ির এক শিশুর গায়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। পরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ,স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমেদ মিঞা ওরফে ভোলার প্ররোচনায় শাহজাহানকে মাটিতে ফেলে তরোয়াল দিয়ে কোপাতে থাকে অভিযুক্তরা।
পরিবারের লোকেরা তড়িঘড়ি শাহজাহানকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করলে পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।
মৃতের স্ত্রী আনবরি বিবির অভিযোগ, শাহজাহান পাশে ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছেলে বাড়ির বাইরে ফুলঝুরি নিয়ে খেলা করছিল। তফাজুলের বাড়ির এক মেয়ের হাতে আগুনের ফুলকি লেগেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করে তাঁর ছেলেকে গালিগালাজ করেছিল। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা। তারপর তর্কাতর্কি হয়েছিল। খবর পেয়ে শাহজাহান এলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। পরক্ষণেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভোলা ও মাতব্বরদের উস্কানিতে তরোয়াল দিয়ে শাহজাহানকে হত্যা করে অভিযুক্তরা। থানায় অভিযোগ দায়ের করে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন আনবরি।
যদিও তৃণমূল নেতা ভোলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় সেখানে ছিলামই না। বিশেষ কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। পরে বাড়িতে এসে এই ঘটনার কথা শুনেছি। আমার নাম কেন এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি অনুপ ঘোষ বলেন, অভিযোগ হওয়ার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। • কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতের স্ত্রী। - নিজস্ব চিত্র।