


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উপনির্বাচনের আবহের মধ্যেই সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় প্রশাসনিক সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেয়াপাড়া শিবমন্দির ময়দানে আয়োজিত এই সভা থেকে এদিন নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন ও পরিষেবা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এদিনের সভায় একাধিক ঘোষণা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার মন্ত্রী ও বিধায়করা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং দুই ব্লকের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক বক্তব্য রাখেন। এদিনের সভা থেকে পরিষেবা প্রদান সংক্রান্ত একাধিক উদ্যোগের পাশাপাশি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের বিশেষ অভিযানের কথাও ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,'নন্দীগ্রামকে খুব তাড়াতাড়ি হলদিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো এবং শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে এলাকার মানুষের যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি সভায় দাঁড়িয়ে আজ বলেন, 'নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার দু’দশকের সম্পর্ক। আজ নন্দীগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন'।
আজ সভা থেকে নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকের ১১ হাজার ৭০০টি পরিবারকে নতুন পাকা বাড়ি তৈরির জন্য অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই খাতে প্রায় ১৩৪ কোটি ৮০ লক্ষ এর বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, আবাস যোজনার আওতায় ওই দুই ব্লকের ৭১৭৪টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে আজ প্রদান করা হল। দ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ৪৩ কোটি ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এমনটাও জানান তিনি। এদিনের সরকারি অনুষ্ঠানে বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে ৩১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৪০টি কাজের সূচনা করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় নতুন ৩২টি রাস্তা তৈরি ও পুরনো রাস্তা মেরামত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। স্বাস্থের দিকেও এদিন নজর দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেয়াপাড়া হেলথ সেন্টারে ৩০ বেডের জায়গায় ৬০টি বেড প্রতিস্থাপন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে নন্দীগ্রামে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, আইটিআই তৈরি করে দেওয়ারও দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, 'উচ্চ শিক্ষার জন্য নন্দীগ্রামের কোন ছাত্র-ছাত্রী অর্থের অভাবে বঞ্চিত হবে না, দায়িত্ব আমার'।