


ইয়াঙ্গন: গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত মায়ানমার। সরকার চালাচ্ছে জুন্টা। এই অবস্থায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রবিবার ছিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার নির্বাচন যথাক্রমে ১১ ও ২৫ জানুয়ারি। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই জানা যাবে ফলাফল। জুন্টা প্রশাসনের দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা যাবে। রাজনৈতিক মহল অবশ্য সেকথা বলছে না। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ থামাতে পারবে না জুন্টা। উলটে একটি পুতুল সরকার গঠন করে আরও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে তারা।
৩৩০টি শহরের মধ্যে ১০২টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে রবিবার। ভোর ৬টা নাগাদ ইয়াংগন, নেপিদ সহ বিভিন্ন শহরে ভোট শুরু হয়। তবে ভিড় তেমন চোখে পড়েনি। জানা গিয়েছে, ৫৭টি দলের ৪ হাজার ৮০০-র বেশি প্রার্থী ভোটে লড়ছেন। বিশ্লেষকদের অনুমান, সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ভোটে জয়ী হতে পারে।
২০২০ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল নোবেলজয়ী অং সান সু কির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। কয়েকদিন পরেই সেনা অভিযোগ করে ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু কি সরকারের পতন হয়। তারপর থেকেই ক্ষমতায় জুন্টা। বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন নোবেলজয়ী নেত্রী। তাঁর দল ভোটে লড়ছে না। এহেন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের কড়া নিন্দা করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। মায়ানমারে রাষ্ট্রসংঘ নিযুক্ত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুজের তোপ, ‘সাধারণের নাগরিকদের উপর বোমা ফেলেই চলেছে জুন্টা। রাজনৈতিক নেতাদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে। তাই জুন্টার এই নির্বাচন মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।’