


ব্রতীন দাস, চুইখিম: রহস্য-রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির হাতছানি। পুজোয় উত্তরের অফবিট ডেস্টিনেশন হিসেবে পর্যটকদের পছন্দের সেরা তালিকায় উঠে আসছে ডালিম দুর্গ, ইয়েলবং কিংবা চুইখিম। রয়েছে চা বাগান ঘেরা ‘রূপসী বাংলা’ ওদলাবাড়ির তুড়িবাড়ি, ঝান্ডি, রায়মাটাং, ডিমা কিংবা বাংলার নতুন গ্রাম ‘বনছায়া’!
ডুয়ার্সের বাগরাকোট থেকে ১৫ কিমি দূরে অনবদ্য পাহাড়ি গ্রাম চুইখিম। এটিকে বলা হয়, হিমালয়ান হিলিং ভিলেজ। লেপচা ভাষায় চুইখিম কথার অর্থ, রেস্ট ইন প্লেস। কর্মব্যস্ত ক্লান্ত জীবনে নিজেকে তরতাজা করতে পুজোর ছুটিতে পর্যটকরা বেছে নিচ্ছেন চুইখিম। এখানে গোটা কুড়ি হোম স্টে। পুজোয় একটিও ফাঁকা নেই। এখানকার একটি হোম স্টের মালিক পবিত্রা খাওয়াস বলেন, চুইখিমে আলিঙ্গন করে মেঘের দল। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। ট্রেকিং, মাউন্টেন ভিউ, হরেক পাখি, প্রজাপতির বাহার, সঙ্গে শিহরণ জাগাবে ঘন জঙ্গল, জলপ্রপাত। আসার পথে মন কেড়ে নেবে লিস নদীর সৌন্দর্য। বাগরাকোট ছাড়ালেই চুইখিমের পথে এখন নয়া আকর্ষণ লুপব্রিজ। কিছুটা এগিয়ে ডানদিকে ইয়েলবং যাওয়ার পথ। এখানেই মিলবে বাংলার লুকনো রোমাঞ্চের খোঁজ। যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাঁদের অন্যতম পছন্দের ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে এটি। দীর্ঘ দু’কিমি নদীখাত। দু’ধারে বড় বড় পাথর। তারই মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে রমতি নদী। সেই নদীর ধারে ঘন জঙ্গল। দু’পাশে সবুজ উপত্যকা। ক্যানিয়ন কেভে কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার গলা পর্যন্ত জল। খুব সাবধানে হাঁটতে হয়। পাওয়া যায় গাইড ও সুরক্ষা-সরঞ্জাম।
লাটাগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, পুজোয় যাঁরা ডুয়ার্সে বেড়াতে আসার জন্য বুকিং করেছেন, তাঁদের বেশিরভাগই অফবিট জায়গা ঘুরে দেখতে চাইছেন। এরমধ্যে যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাঁদের ইয়েলবং যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। গোরুবাথান থেকে ৭ কিমি দূরে লেপচা রাজার রক্তে রাঙানো ইতিহাসের গড় ডালিম ফোর্ট পুজোয় পর্যটকদের পছন্দের ডেস্টিনেশন। এই দুর্গের ভাঙা দেওয়ালে কান পাতলে আজও শোনা যায় বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনি! সন্ধ্যায় ভারী হয়ে ওঠে এখানকার বাতাস। গা ছমছমে পরিবেশ। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে চেল নদী। লেপচা রাজার মুণ্ডচ্ছেদ করে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই নদীতেই!
ডুয়ার্সের কাছে অথচ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত ঝান্ডিতেও পুজোয় ঠাঁই নেই। সারাবছর এখানে ঠান্ডা থাকে। এখানকার একটি হোম স্টে’র মালিক রাজেন প্রধান জানালেন , পুজোয় প্রায় সবক’টি হোম স্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। এখান থেকে প্রাণভরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ রয়েছে। দিনের থেকেও রাতের ঝান্ডি যেন বেশি মোহময়ী। পাহাড়ের গায়ে ঝুলতে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলিতে যখন আলো জ্বলে ওঠে, মনে হয় যেন দীপাবলি! চুইখিমের আকাশে রঙের খেলা।-নিজস্ব চিত্র