


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: খাওয়াদাওয়া করছেন। বাজারে যাচ্ছেন, আড্ডাও দিচ্ছেন। কিন্তু ভোটার তালিকায় তিনি ডিলিট। অস্তিত্বহীন। যার জেরে প্রবল ক্ষুব্ধ উদয়নারায়ণপুরের খিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫০ জনের বেশি ভোটার। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এইসব ভোটারদের শুনানির নোটিস এসেছিল। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও ফাইনাল তালিকায় তাঁদের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
কেন এমন হল, প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার খসড়া ভোটার তালিকায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৯৫ জনের নাম ছিল। চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ১৯ হাজার ২৮৫। ৯ হাজার ১১৮ জনের নাম বিবেচনাধীন রাখার পাশাপাশি ১৯২ জনের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, খিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবিত অনেকের নাম ডিলিট করে দেওয়া হযেছে। যেমন ৪০ বছরের প্রদীপ কোলে। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাবা-কাকারা বেঁচে থাকলেও আমি উদ্বাস্তু হয়ে গিয়েছি। তালিকায় আমার বাবা, মা, স্ত্রী, মেয়ে সহ ১১ জনের নাম থাকলেও আমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আমার ডোঙাজল গ্রামে এইরকম ১৭ জনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন নাম বাদ দেওয়া হল বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে, খিলা গ্রামের বছর ৩৯-এর পিযূষ দে’র একই অবস্থা। তিনি বলেন, শুনানির নোটিস পেয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার তালিকায় আমার মা, বাবা, স্ত্রীর নাম থাকলেও আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বছর ৩৪ সৌরভ খামরুই পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। ফাইনাল তালিকায় তাঁর নাম নেই। তিনি জানান, আমি আগে ভোট দিলেও এবারে নাম বাদ পড়ে গেলাম। পরিবারের পাঁচজনের নাম উঠলেও আমার নাম ডিলিট। তিনি জানান, নোটিস পাওয়ার পর অ্যাডমিড কার্ড, আধার, প্যান কার্ড জমা দিলে আমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি সৌরভের। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, বিধানসভা এলাকায় এইভাবে অনেক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্র করেও লাভ হবে না। পুনরায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে।