


কাঠমাণ্ডু: সেপ্টেম্বরের পর নভেম্বর। তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ (জেন জি)-র বিক্ষোভে ফের উত্তাল নেপাল। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরা জেলা। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দিনের বেলায় কার্ফু জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে। ঘটনার সূত্রপাত জেন জি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন-ইউএমএল) সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘিরে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিমানে সিমারায় যান ওলির দলের দুই নেতা মহেশ বসনেট ও শংকর পোখরেল। দুই নেতা বিমানবন্দরে নামতেই বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-যুবরা। তখনই সিপিএন-ইউএমএল সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ঘটনায় জেন জির ৬ জন সমর্থক আহত হন। অল্প সময়ের জন্য বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওইদিনের সংঘর্ষে এক ডজনের বেশি সিপিএন-ইউএমএল সমর্থক জড়িত থাকলেও পুলিশ মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের এহেন ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ জেন জি আন্দোলনকারীরা। পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার তারই প্রতিবাদে সিমারায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হটাতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় এদিন দুপুর ১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিমানবন্দর সহ শহরে কার্ফু জারি করে প্রশাসন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি সংযম বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অবাঞ্ছিত উসকানি নিয়েও রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। আগামী মার্চে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি নিষ্ঠাবান থাকারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের (জেন জি) বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ৭৬ জনের। প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি।