


তেহরান: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে। রবিবার এমনই হুঁশিয়ারি দিল ইরান। এদিন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ওই শিশু-হত্যাকারী (নেতানিয়াহু) বেঁচে থাকলে আমরা পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে ওকে খুঁজে বের করে মারব।’ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা ছড়িয়েছে, ইরানের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেদিন থেকে নেতানিয়াহুকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আর তাতেই জল্পনা বেড়েছে। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে স্পষ্টই জানানো হয়, নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে সমস্ত খবর ভুয়ো। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। আর তারপরেই নেতানিয়াহুকে হুমকি দিল তেহরান। তবে, সেই হুঁশিয়ারিতেও নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক ফের একবার উসকে দিয়েছে তারা।
গত ১২ মার্চ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিয়োতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে হত্যার হুঁশিয়ারি দেন নেতানিয়াহু। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ওই ভিডিয়োটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। ওই ভিডিয়োর একটি অংশে নেতানিয়াহুর হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেন অনেকে। এছাড়া নেতানিয়াহুর পিছনে থাকা নীল কাপড় ও ইজরায়েলের পতাকাতেও অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে এক্স-এর এআই চ্যাটবট গ্রক ফ্যাক্ট-চেক করে জানায়, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ভিডিও পোস্টই করা হয়নি। এই ভিডিয়ো নিয়ে আমেরিকার অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার মার্কিন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ক্যানডিস ওয়েন্স এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়? কেন ওঁর দপ্তর ভুয়ো এআই ভিডিয়ো প্রকাশ করছে, আবার ডিলিট করছে? হোয়াইট হাউসের অন্দরেও এত আতঙ্ক কেন?’ শনিবারই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তুরস্কের একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই বেঞ্জামিনের ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু কেন সমাজমাধ্যম থেকে ‘উধাও’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এক্সে ইয়াইরের প্রায় ৩ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে। তিনি নিয়মিত পোস্টও করেন। অথচ, ৯ মার্চের পর থেকে নেতানিয়াহু-পুত্র কোনো পোস্ট করেননি।