


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বনগাঁ দক্ষিণে ভোট প্রচারের ধরনে কিছুটা বদল আনল তৃণমূল। মঞ্চ বেঁধে সভা বা বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ তো আছেই, এর পাশাপাশি প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্যর প্রচারের জন্য বাঁধা হয়েছে থিম সং। নেতৃত্বের দাবি, এই গান এখন তাদের প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। গানের মাধ্যমে অনেক দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তাদের টিপ্পনি, ‘মানুষের মনে এখন বিজেপি। যতই ওরা পদ্ধতি বদলাক, সব ব্যুমেরাং হবে।’
বনগাঁ দক্ষিণে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বছর ২৬-এর ঋতুপর্ণা আঢ্য। নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রচারে ঝড় তুলেছেন এই তরুণ তুর্কি। তাঁর প্রচারসূচিতে থিম সং একটি নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে নিয়েছে। প্রচার গাড়ি, ছোটো সভা থেকে পাড়ার মোড়, সর্বত্র বাজছে সেই সুর। গানই পৌঁছে দিচ্ছে প্রচারের মূল কথাগুলি। সংক্ষিপ্ত লাইন, সহজ শব্দ, এবং স্লোগানধর্মী ছন্দ—যা সহজে মনে থাকে এবং বারবার শোনার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তেমনভাবেই গানটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। সেখানে রয়েছে স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা, এবং কাজের ভিত্তিতে সমর্থনের বার্তা। অর্থাৎ, দীর্ঘ রাজনৈতিক ভাষণের বদলে সংক্ষেপে অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা। প্রচারের এই ধরনকে অনেকে ‘হাইটেক’ কৌশলের অংশ হিসাবে দেখছেন। কারণ, এক্ষেত্রে শুধু গান তৈরি করাই নয়, সেটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বারবার শোনানো—এই পুনরাবৃত্তির মধ্যে তৈরি হচ্ছে বার্তার প্রভাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই পদ্ধতি ভোটারদের মনে ইস্যুগুলিকে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তৃণমূল প্রার্থীর মাঠের প্রচারও সেই সুরের সঙ্গেই এগচ্ছে।
ঋতুপর্ণা বলেন, ‘আমি ভোটপ্রচারে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিজেপির বিধায়ক এলাকায় কোনো কাজ করেনি এতদিন। থিম সংয়ের মাধ্যমে আমার দলীয় বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। প্রচারে এটা আমি বিশেষভাবে ব্যবহার করছি।’ তবে এনিয়ে বনগাঁ বিজেপির জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘গান বা সুরের চেয়ে ভোটের ফল নির্ধারণে অনেক বেশি ভূমিকা বাস্তব পরিস্থিতির। তৃণমূলের সরকার যেভাবে দুর্নীতি করেছে, তাতে মানুষ ওদের ভোট দেবে না। জেনে রাখুন, এলাকার মানুষ ওদের প্রত্যাখান করবে।’