


ওয়াশিংটন: তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকেই সাহায্য করছে ভারত! এবার সরাসরি অভিযোগ তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত শুধু বিপুল পরিমাণে রাশিয়ার তেলই কিনছে না, তা খোলা বাজারে বিক্রি করে বড় মুনাফা লুটছে। রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্রে ইউক্রেনে কত মানুষ মারা যাচ্ছে, তাতে ওদের কিছু যায় আসে না। সেই কারণেই তিনি ভারতের উপর শুল্ক ভবিষ্যতে আরও বাড়িয়ে দেবেন বলেও দাবি ট্রাম্পের। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিতে উৎসাহ দিয়েছিল আমেরিকাই। এমনকী ভারতের সমালোচনা করা দেশগুলি নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার মধ্যে ৬৭,৫০০ কোটি ইউরোর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। ২০২৩ সালে বাণিজ্য হয়েছে ১৭,২০০ কোটি ইউরোর, যা ভারত-রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের চেয়ে অনেক বেশি। এর আগে গত শনিবার দিল্লি জানিয়েছিল, মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধ করা হবে না।
এদিকে ট্রাম্পের সুরেই হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের অভিযোগ, অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারত যে টাকা দিচ্ছে, তা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তবে শুধু এই অভিযোগ করেই থামেননি মিলার। তিনি দাবি করেছেন, সবাই শুনে আশ্চর্য হয়ে যাবে যে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আদতে চীনের সঙ্গে জোট বেঁধেছে ভারত। সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সেই সময়ই জানিয়েছিলেন, ভারত যেভাবে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে, তা তিনি ভালো চোখে দেখছেন না। এর জন্য ভারতের উপর ‘জরিমানা’ বসবে। দুই দেশের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এক সাক্ষাত্কারে মিলার বলেন, ‘বিশ্বের কাছে ভারত নিজেকে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উপস্থাপন করে। কিন্তু ওরা আমাদের পণ্য গ্রহণ করে না। আমাদের পণ্যের উপর বিশাল শুল্ক আরোপ করে। অভিবাসন নীতি নিয়েও ওরা অনেক প্রতারণা করে, যা মার্কিন কর্মীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।’
হোয়াইট হাউসের ওই কর্তার দাবি, ভারত ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অসাধারণ। সেটা তিনি বজায় রাখতেও চান। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ও শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক, আর্থিক সব ধরনের পথ খোলা রাখতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ডেমোক্র্যাট পার্টি ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও দায়ী করেছেন মিলার।