


দুই ভাগে ছবি মুক্তি। বলিউড ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে এখন এটাই ট্রেন্ড। আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ দু’ভাগে মুক্তি পেয়েছে। এই ছবির সাফল্যের পর সেই প্রবণতা আরও বাড়ছে। বড়ো বাজেটের ছবিকে দু’ভাগে ভেঙে রিলিজ করা হচ্ছে। সম্প্রতি এস এস রাজামৌলি পরিচালিত ‘বারাণসী’ এই পথে হেঁটেছে। শাহরুখ খানের ‘কিং’, সঞ্জয়লীলা বনশালী পরিচালিত ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’, রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’, অ্যাটলি পরিচালিত অল্লু অর্জুনের পরের ছবি— সবক’টিই মুক্তি পেতে পারে দু’ভাগে। অন্তত জল্পনা তেমনই। কেন আচমকা শুরু হল এই ট্রেন্ড?
প্রথম কারণ অবশ্যই বড়ো বাজেট রিকভারি। অর্থাৎ ছবি তৈরিতে খরচ হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রযোজকের ঘরে উঠে আসা এর অন্যতম কারণ। এখন সর্বভারতীয় স্তরে কোনো ছবি তৈরি করতে হলে তার বাজেট পৌঁছচ্ছে ৪০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা। এত বড়ো বিনিয়োগ একসঙ্গে রিলিজ করে তুলতে গেলে ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে গল্পকে দু’ভাগে ভাগ করলে প্রযোজকরা সেই ঝুঁকি ভাগ করে নিতে পারেন। প্রথম পার্ট সফল হলে দ্বিতীয় পার্টের জন্য আগেই চাহিদা তৈরি হয়ে যায়। প্রভাসের ‘বাহুবলী’ এই মডেলকে জনপ্রিয় করেছে।
দ্বিতীয়ত, একটি ছবিকে দুই ভাগে ভাগ করলে কার্যত দু’টি আলাদা রিলিজ উইন্ডো পাওয়া যায়। অর্থাৎ একই গল্প থেকে দু’বার বড়ো আয়ের সুযোগ থাকে। কেবল থিয়েটার নয়, স্যাটেলাইট, ওটিটি, মিউজিক, স্বত্ব, সবক্ষেত্রেই দু’বার করে উপার্জনের সুযোগ থাকছে।
তৃতীয়ত, অনেক গল্প (বিশেষত পৌরাণিক কাহিনি) একটি ছবির মধ্যে সম্পূর্ণ বলা কঠিন। সে কারণে রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ দুই পর্বে আনার পরিকল্পনা নির্মাতাদের। সঙ্গে মাথায় রাখতে হচ্ছে ‘আদিপুরুষ’ ছবির বিতর্কও। সে কারণে দুই পর্বে পুরো গল্প দেখানোর সুযোগ মেলে। ওটিটি দুনিয়ায় সিরিজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কারণ সেখানে প্রতিটি চরিত্র আলাদা করে সুযোগ পায়। ধীরে ধীরে তৈরি করা যায় সাবপ্লট। ফলে গল্পের সঙ্গে দর্শক একাত্ম হতে পারেন।
চতুর্থত, প্রথম পর্বের শেষে থাকা টুইস্ট দর্শকের এনগেজমেন্ট বাড়ায়। দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষাও বাড়তে থাকে। সমাজমাধ্যমে চলতে থাকে লাগাতার আলোচনা। ঠিক যেমন হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রে। এই দীর্ঘমেয়াদি হাইপ ছবির ব্যবসাকে আরও বাড়ায়। ‘পুষ্পা’, ‘কেজিএফ’-এর মতো একাধিক ছবিও এই পথে হেঁটেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে ট্রেন্ডে। বহু পুরনো ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজি সাম্প্রতিক অতীতে মুক্তি পেয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশই বক্স অফিসে সফল। তাই বড়ো তারকাদের নিয়ে তৈরি কোনো ছবি দু’ভাগে মুক্তি দেওয়া হলে, তা নিয়ে দর্শক মহলে উন্মাদনা দ্বিগুণ হয়। ফলে ভবিষ্যতে সেই চরিত্রকে নিয়ে একটা গোটা ছবিও তৈরি করা যেতে পারে। চরিত্রর মার্কেট ভ্যালুও বেড়ে যায় বহুগুণ। আর এই দু’ভাগে মুক্তির মডেল আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
তবে এই ট্রেন্ডের বেশ কিছু ঝুঁকিও অবশ্য রয়েছে। প্রথম ভাগ যদি দর্শককে সন্তুষ্ট করতে না পারে, সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় ভাগের প্রতি আগ্রহ কমে। এছাড়াও অনেক সময় গল্পকে অতিরিক্ত টেনে দু’ভাগে বাড়ানো হলে দর্শক বিরক্ত হন। ফলে কনটেন্টের গুণমান এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
শান্তনু দত্ত