


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: গত লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে মন্দির উদ্বোধন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল। যদিও সেই অযোধ্যাতেই ভোটে ভরাডুবি হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের। প্রভু রামচন্দ্রকে নিয়ে রাজনীতি খারিজ করে দিয়েছিল অযোধ্যাবাসী। কিন্তু তা থেকে বিজেপি তথা কেন্দ্রের সরকার কোনো শিক্ষাই নেয়নি! তাই এবার দেশের কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষের পাঠ পড়াতেও প্রভু রামের দ্বারস্থ হতে হল সরকারকে! বিরোধীদের এমনই কটাক্ষের মুখে পড়ছে গেরুয়া শিবির।
ঠিক কী ঘটেছে? দেশের নীতি আয়োগ প্রাকৃতিক চাষ এবং তার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গাইডবুক প্রকাশ করেছে মার্চের শুরুতেই। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, বৃক্ষায়ুর্বেদ, বৃহৎসংহিতা, লোকোপকার সহ একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে প্রাকৃতিক চাষের গুণাগুণ নিয়ে যা বলা হয়েছে, সেসব তুলে ধরা হয়েছে ওই গাইডবুকে। এসব তথ্য প্রমাণ করছে, সবুজ বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই ভারতবর্ষ কৃষিকাজ এবং কোনো রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিক চাষের ক্ষেত্রে অনেক দেশের থেকে এগিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই প্রাচীন ঐতিহ্য তুলে ধরায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এসব প্রাচীন গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা শেষ হতেই গাইডবুকে প্রভু রামের সঙ্গে ভরতের কথোপকথনের একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘প্রভু রাম ভরতকে কৃষিকাজ এবং পশুপালনের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিশেষ যত্ন নিতে বলেছিলেন।’ এখানেই বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, রামের নামে দেওয়া এই উদ্ধৃতির সঙ্গে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষের কি কোনো যোগ আছে? এখানে তো প্রভু রাম ভরতকে বলছেন, যাঁরা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই লাইন থেকে কৃষকরা বা যাঁরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন, তাঁরা প্রাকৃতিক চাষ সম্পর্কে কী শিক্ষা লাভ করল? তাহলে কি নীতি আয়োগের তরফে নির্দিষ্ট কোনো কারণে এই লাইনটি ব্যবহার করা হল?
এ বিষয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরাও চিরকাল রামের পুজো করে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গায় বড় করে রামনবমী পালন হয়। কিন্তু বিজেপি এমন দেখায়, যেন ওরাই একা রামের পুজো করে। এর মাধ্যমে আসলে তারা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। কোনো বইতে রামের নাম বা তাঁকে নিয়ে যথাযথ বক্তব্য তুলে ধরা হলে আপত্তি ছিল না। কিন্তু এই বইতে রামের নাম করে উদ্ধৃত অংশের সঙ্গে প্রাকৃতিক চাষের কী যোগ, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র রামের নাম দিতে হবে বলেই দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে এটা নিয়ে বিতর্ক তো হবেই।’