


সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুর থেকে নামখানার দূরত্ব ৯০ কিমি। এই দীর্ঘ পথে কখনও ট্রেন দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে দেহ তুলতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় বারুইপুর জিআরপিকে। কারণ তাঁদের হাতে কোনো সরকারি ডোম নেই। ভরসা বলতে স্থানীয় যুবকরা। তাঁরাই হাতে হাতে দেহ সরিয়ে আনেন রেল লাইন থেকে। গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটলে তো আর কথাই নেই। দেহটি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে অপেক্ষা করতে হয় ভোরের ফার্স্ট ট্রেনের উপর। ততক্ষণ দেহটি লাইনের উপরেই পড়ে থাকে। সেটি প্রথমে নিয়ে আসা হয় বারুইপুরে, সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক করার পর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ডহারবার জেলা হাসপাতালে। সূত্রের খবর, এই সমস্যায় জেরবার হতে হয় মৃতের আত্মীয়দের। এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহ রেল পুলিশের সুপার দেবাশিস নন্দী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, এটি রেলের বিষয় নয়। জিআরপির ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দেখা উচিত।
বারুইপুর জিআরপির সীমানা একদিকে নামখানা স্টেশন ও অন্যদিকে ডায়মন্ডহারবার শাখার কল্যাণপুর স্টেশন পর্যন্ত। নামখানা ও লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই সময় রেল লাইন থেকে দেহ তুলতে জিআরপিকে হিমশিম খেতে হয়। সরকারি ডোম না থাকায় স্থানীয় লোকজনের উপর নির্ভর করতে হয় তাদের। গভীর রাতে নামখানা বা লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পুলিশ অকুস্থলে যেতে পারে না। কারণ, ততক্ষণে রাতের শেষ ট্রেন চলে গিয়েছে। তখন ভোরের ফার্স্ট ট্রেনের জন্য নির্ভর করতে হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের জন্য ডায়মন্ডহারবার জেলা হাসপাতালে দেহ নিয়ে যেতে অনেক সময় লেগে যায়। একমাত্র ওই হাসপাতালেই ময়নাতদন্তের চিকিৎসক রয়েছেন। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্ষুব্ধ হন মৃতের পরিজনরা। জিআরপির সঙ্গে প্রায়ই চলে বচসা।