


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দ্রুত শুনানির আরজি জানালেও এদিন শুনানি হয়নি। বিচারপতি জানিয়েছেন আজ বৃহস্পতিবার তিনি মামলাটি শোনার চেষ্টা করবেন। স্বাভাবিকভাবেই এই আজকের শুনানির দিকেই এখন নজর সব পক্ষের। কারণ বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থকে রাজ্যে ফিরে এলেও অভিষেক আসেননি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এদিন মামলার শুনানি না-হওয়ার কারণেই তিনি দিল্লি থেকে গিয়েছেন, যাতে কঠোর পদক্ষেপ এড়ানো যায়।
এদিকে, এই সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল দপ্তরে যায় সিআইডির একটি দল। তবে প্রথমেই ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেতার সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় ঘণ্টা দুই কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি।
তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কিশোর দত্ত বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে অভিযোগ করে বলেন, কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট এবং সিজার লিস্ট ডকুমেন্ট ছাড়াই সিআইডি জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করেছে। সিআইডির এই কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা।
সই কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে এর আগে হাইকোর্টের গ্রীষ্মবকাশকালীন বেঞ্চেও মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানান অভিষেক। সেসময় বিচারপতি চৌতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চ জানিয়েছিল ১০ জুন নিয়মিত বেঞ্চে মামলার শুনানির হবে। কিন্তু কৌশিক চন্দের এজলাসে বুধবার শুনানির তালিকায় মামলাটির উল্লেখ না-থাকায় দ্রুত শুনানির আরজি জানান কল্যাণ। কিন্তু বিচারপতি চন্দ জানান, বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হবে।
অন্যদিকে, অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ডায়মন্ডহারবার থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ডায়মন্ডহারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করেছে পুলিশ। বিজেপি নেতার অভিযোগ, ২০১৮ সালে তিনি যখন বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন সে-বছরই ২১ ডিসেম্বর ডায়মন্ডহারবারের কপাটহাটে তাঁর উপর নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়। অভিষেক এই হামলা চালিয়েছিলেন—তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের পরিকল্পনায় এবং ডায়মন্ডহারবারের বেশকিছু তৃণমূল নেতার মদতে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের দিয়ে। ফলে সব মিলিয়ে এখন রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।