


ইসলামাবাদ: জেলবন্দি ইমরান খানকে নিয়ে লেজেগোবরে শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানের আদিলা জেলে ‘কাপ্তান’-এর অসুস্থতার খবরে ক্ষিপ্ত তাঁর সমর্থকরা। এরইমধ্যে রোষ আছড়ে পড়েছে সেনাপ্রধান এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপরও। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মিমের বন্যা। মুনিরকে ‘ভণ্ড’, ‘প্রতারক’ বলতেও ছাড়ছেন না পাকিস্তানের লোকজন। কিন্তু বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। মুনিরের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএস) হওয়ার স্বপ্ন বিশ বাঁও জলে। এখনও সিডিএস পদে তাঁকে বসানো নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি পাক সরকার।
গত ২৯ নভেম্বর ফিল্ড মার্শাল হিসেবে তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে মুনিরের। তারপর কেটে গিয়েছে পাঁচটি দিন। জানা যাচ্ছে, মুনিরকে কোনওভাবেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য সেনাপ্রধান রাখতে কিংবা দেশের প্রথম সিডিএস পদে উন্নীত করতে চান না প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ডেডলাইন এড়াতে তিনি নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ব্রিটেন সফরে চলে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিদেশ সফর সেরে তিনি সরাসরি ইসলামাবাদেও নামবেন না। যাবেন তাঁর শক্তঘাঁটি লাহোরে। যার ফলে পাকিস্তানে এই মুহূর্তে খাতায়-কলমে কোনও সেনাপ্রধান নেই। পাশাপাশি দেশের বড় অংশের নাগরিকের সমর্থনও মুনিরের পাশে নেই। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মিমের ছড়াছড়ি। কেউ লিখেছেন, ‘আমি মুনিরকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান মনে করি। সেনাপ্রধানের ছদ্মবেশে তিনি একজন ভণ্ড ব্যক্তি।’ আবার কেউ বলেছেন, ‘হতাশাগ্রস্ত মুনির নিজেকে এখনও সেনাপ্রধান হিসেবে জাহির করছেন।’ পাক সাংবাদিক সিরিল আল মেইদার কটাক্ষ, আপাতত সরকারের মুখাপেক্ষীই থাকতে হচ্ছে মুনিরকে। আবার মুনিরের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক এম পীরজাদা পুরো ঘটনার জন্য শাহবাজকে দায়ী করেছেন। বিজ্ঞপ্তি জারির বিলম্ব নিয়ে তাঁকে ‘ডার্টি চাইল্ড’ বলে তোপ দেগেছেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসেন নাদিম এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সেনাপ্রধানের উচিত চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা থেকে বেরিয়ে আসা।’ এখন পরবর্তী পরিস্থিতি কোন পথে গড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।