


নাগপুর: রামমন্দিরের প্রণামি চুরিতে দোষীরা কেউ রেহাই পাবে না। কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি পাবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবালের সুরেই রবিবার স্পষ্ট বার্তা সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, হিন্দু আবেগ ও বিশ্বাসে আঘাতকারীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। প্রণামি দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় যোগীরাজ্যের রাজনীতি। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেকথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে ময়দানে নেমেছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, আপের মতো বিরোধী দলগুলি। বিজেপির পাশাপাশি আরএসএস-কেও নিশানা করেছে তারা। অবশেষে এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন ভাগবত।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হোসবালে বলেন, ‘প্রণামি চুরির ঘটনা রামভক্তদের পাশাপাশি পুরো সমাজের বিশ্বাস ও ভাবাবেগে আঘাত করেছে। আমরা অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। সিট তদন্ত শুরু করেছে। কেউ দোষী চিহ্নিত হলে কঠোর শাস্তি পাবে।’ তাঁর সংযোজন— ‘এই দুঃসময়ে সংযম বজায় রাখতে হবে। যাতে হিন্দু ও দেশবিরোধী শক্তিগুলির চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া যায়।’ এরপরই শনিবার নাগপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য, ‘হোসবালের মন্তব্য দেখুন। ওটাই আমার প্রতিক্রিয়া।’ পরোক্ষভাবে তাঁর বার্তা, প্রণামি চুরি করলে শাস্তি পেতেই হবে। এই প্রেক্ষিতে রামমন্দির মন্দিরের ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দদেব গিরি জানিয়েছেন, প্রণামির টাকা গণনায় তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।
বিতর্কের আবহে নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অজয় অলোকের দাবি, রামমন্দিরে প্রণামি দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত টিন্নু যাদবের সঙ্গে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের সম্পর্ক রয়েছে। অখিলেশের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে টিন্নুর। ধীরে ধীরে সমাজবাদী পার্টির কাণ্ডকারখানা সামনে আসছে। শীঘ্রই এই চুরির নেপথ্যে থাকা আসল রহস্য জানতে পারবে দেশবাসী। একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে তারা। এদিন অযোধ্যার ডিএসপি আশুতোষ তিওয়ারিকে লেখা চিঠিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমারের আবেদন, ‘অবিলম্বে কেজরিওয়াল-প্রিয়াঙ্কাদের তলব করা হোক। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হোক। অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনে তাঁরা তথ্য-প্রমাণ জমা দিক। জনসমক্ষে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন বিরোধী দলের নেতারা। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র তা প্রচারিত হচ্ছে। মনে হচ্ছে তাঁরা সমস্ত কিছুই জানেন। তাই জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।’ পালটা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশের কটাক্ষ— আরএসএস, প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউ কিছু জানতেন না এমনটা ভাবাই বোকামি। মোদি চুপ কেন? সেই প্রশ্নও তুলেছে রাহুল গান্ধীর দল।
প্রণামি চুরি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য মহন্ত দীনেন্দ্র দাস মহারাজ। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানিয়েছেন। আজ, সোমবার শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রর ইস্তফা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।