


নয়াদিল্লি: ছাত্র-যুবদের আন্দোলন সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সংযমী হতে হবে। বলপ্রয়োগ না করে বিক্ষোভকারীরা কী বলতে চাইছেন, তা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। কেউ যদি প্ররোচনায় পা দিয়ে পাথর ছুড়ে থাকেন, তাঁকে শান্ত করতে হবে। তাঁদের পরামর্শ ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন। রাষ্ট্রের তরফে কোনো বলপ্রয়োগ করা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এহেন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। বুধবার কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকারকে এভাবেই সংযমের পাঠ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে পাটনা কিংবা কলকাতা— নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি অত্যাচার নিয়ে সোচ্চার কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। জেন জিদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে একের পর এক আইনি ধারা চাপানোর প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব ককরোচ জনতা পার্টি। তবে গত ২০ জুলাই ছাত্র-যুবদের সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পালটা বাহিনীর উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এবার ওই কর্মসূচিতে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় নতুন করে একটি মামলা দায়ের করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক মনীশ কুমার সোলাঙ্কি। তাঁর দাবি, সংসদ অভিযানের নেপথ্যে থাকা আয়োজকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহানার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। এজলাসে মনীশ কুমার সোলাঙ্কির তরফে আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘১৫ দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বুকে এমন তাণ্ডবের আয়োজকরা অবাধে এক টিভি চ্যানেল থেকে অন্য টিভি চ্যানেলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখনও উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। সমানে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের সুবিধা দিতে সরকারের এতটা নমনীয় হওয়াও উচিত নয়।’ নয়া ইউজিসি বিধি প্রত্যাহারের দাবিতে রাজস্থানে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, দিল্লির মতো রাজস্থানেও সরকার একইভাবে পিছু হটবে। সরকার এভাবে ঝুঁকতে শুরু করলে, আগামী দিনে দাবি আদায়ে যা খুশি হতে পারে। একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হচ্ছে। তিন বছর আগে কৃষকরা ছিল। ভবিষ্যতে আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টারাও আসবে।’
সেই সওয়াল শুনে সংযত থাকারই বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর বক্তব্য, ‘এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-যুবদের বোঝাতে হবে। প্রতিবাদ যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে, সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে। পুলিশকে আরও সংযমী হতে হবে। পরিস্থিতি যেন হাতের বাইরে না চলে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, তরুণরা যাতে কোনো হিংসায় না জড়িয়ে পড়ে। শান্তিস্থাপন করতে গিয়ে বলপ্রয়োগ অনেক সময় হিংসা আরও বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে ভালো উপায় হল, বিক্ষোভকারীদের কথা শোনা। কেন তাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তা বোঝার চেষ্টা করা।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়ন ইতিমধ্যে কেন্দ্রের সরকারকে বিপাকে ফেলেছে। তরী ডোবার আগে সংযত হওয়ার সুপ্রিম বার্তা সেই বিষয়টিতেই সিলমোহর দিল।