


অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে বিনিদ্র ভারতবাসী রেডিওতে কান রেখেছে। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে বেতারে। উত্তর কলকাতার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র গুরুগম্ভীর গলায় বর্ণনা দিচ্ছেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের। সে দিন চোখে না দেখেও শুধুমাত্র ধারা বিবরণী শুনে স্বাধীনতা আস্বাদন করেছিল ভারতবাসী।
সেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় চণ্ডীপাঠ শুনেই বাঙালির দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। বহুবছর ধরেই রেডিওতে সম্প্রচারিত হওয়া মহিষাসুরমর্দিনী পুজোর সময় বঙ্গ জীবনের অঙ্গে পরিণত হয়েছে। বাণীকুমার রচিত, পঙ্কজ মল্লিকের সুর আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পাঠ-মহালয়ার সকাল পবিত্র করে তোলে। সেই নস্টালজিয়াই এবার দুর্গাপুজোর ভাবনাতে। উত্তর কলিকাতা সাধারণ দুর্গোৎসবের বিষয় ভাবনা আবর্তিত মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে নিয়ে। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর অঞ্চলে রামধন মিত্র লেনে জন্ম নেওয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়ে উত্তর কলিকাতা সার্বজনীন দুর্গোৎসবের থিম-‘শুধু ভদ্র কথা, মহা-আলয়ে মা।’
বলরাম ঘোষ স্ট্রিটের বীরেন্দ্র মঞ্চে তৈরি মণ্ডপ সেজে উঠছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও প্রাচীন কলকাতার ছবি দিয়ে। মণ্ডপের চারপাশ স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময়কালের কলকাতার ছবি ফিরিয়ে আনবে বাঙালির মনে। ৯৪ বছরের প্রাচীন এই পুজো এ বছরই নিজেদের পাড়ার বরেণ্য ব্যক্তিকে নিয়ে থিমের পুজো করছে। শিল্পী শম্ভু সাহার চ্যালেঞ্জ, সাবেকি ধারা বজায় রেখে থিম গড়ে তোলা। মহালয়ার দিন রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শুরু হতেই শিল্পী সুশান্ত পাল দুর্গার চক্ষুদান করবেন। এভাবেই পুজোর উদ্বোধন হবে বলে জানান কমিটির সচিব অরিন্দম চক্রবর্তী। সাবেকি ঢঙে গড়ে ওঠা দুর্গার মূর্তির সঙ্গে মণ্ডপে থাকবে বিরাট আকারে এলইডি স্ক্রিন। তাতে দেখানো হবে কলকাতার গঙ্গার ঘাটের একাধিক ছবি। থাকবে তর্পনের ছবি। মণ্ডপের সামনে উত্তর কলকাতার প্রাচীন রক সংস্কৃতিও তুলে ধরা হবে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ এর আবহে মণ্ডপজুড়ে বীরেন্দ্র স্মৃতি তর্পণ।