


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, ফালাকাটা: কোচবিহারের দিনহাটার উত্তমকুমার ব্রজবাসীর পর আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার মনসিংপাড়া গ্রামের গৃহবধূ অঞ্জলি শীল! বেআইনি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে অঞ্জলিদেবীকে এনআরসি’র নোটিস পাঠিয়েছে অসমের কোকরাঝাড়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। সেটি লেখা হয়েছে অসমিয়া ভাষাতেই। ১৯৮১ সালের ৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা অঞ্জলিদেবীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর তিনি বেআইনিভাবে অসমে অনুপ্রবেশ করেছেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আগামী ১৯ আগস্ট সশরীরে অথবা আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে কোকরাঝাড়ের দপ্তরে হাজির হতে হবে তাঁকে। অন্যথা একতরফা সিদ্ধান্ত (বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত) গ্রহণ করা হবে।
এ রাজ্যের বাসিন্দা গৃহবধূকে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নোটিস পাঠানোয় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘যথাযথ জায়গায় আমরা এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করব।’ নাম না করে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা—‘বাংলার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন কী করে? ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে বলব, নিজের চরকায় তেল দিন।’ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, ‘ওখানে তো কালীমন্দির ভেঙে দিয়েছেন। অনেক মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখেছেন। এভাবে যদি চলেন, তাহলে দেশটা কিন্তু বিভক্ত হয়ে যাবে।’ সোমবার ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ মঞ্চ থেকেও তৃণমূল সুপ্রিমো ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিজেপি পরিচালিত অসম সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের এনআরসি নোটিস পাওয়া উত্তমকুমার ব্রজবাসী ছিলেন সেই মঞ্চে। কার্যত হিমন্ত সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলায় কথা বলায় এত আপত্তি! এর প্রতিবাদে আমিও যাব প্রয়োজনে। দেখব, কোন ডিটেনশন ক্যাম্পে আমাকে আটকে রাখেন।’
যে নোটিসের ভিত্তিতে ফালাকাটার গৃহবধূকে কোকরাঝাড়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়েছে, তা কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতে পাননি অঞ্জলিদেবী। এমনকী অসমের ধুবড়িতে বসবাসকারী তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনও এমন নোটিস পাননি বলে অঞ্জলিদেবীর দাবি। তবে অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের তরফে পাঠানো নোটিসটিতে ফালাকাটাকে কোচবিহার জেলার অন্তর্ভুক্ত বলে লেখা হয়েছে। নোটিসটি ২১ জুলাই কোচবিহার পুলিস সুপারের দপ্তরে এসে পৌঁছয়। অঞ্জলিদেবীর স্বামী নিত্য শীলের আদি বাড়ি অসমের বক্সিরহাটে। এদিন তিনি বলেন, ‘গত ৩০-৩৫ বছর ধরে ফালাকাটায় আছি। ২৫ বছরের বেশি সময় হল, অঞ্জলিকে বিয়ে করেছি। এখন আমার স্ত্রীকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে শুনছি।’ অঞ্জলিদেবী জানিয়েছেন, জন্ম ও ভারতীয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে আছে। সেগুলি নিয়ে প্রয়োজনে কোকরাঝাড় ট্রাইব্যুনালে যাবেন। এই আবর্তে ক্ষুব্ধ মমতার প্রশ্ন, ‘আমাদের এখানেও তো বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ এসে কাজ করছে, থাকছে। তাহলে আমাদের এখানকার মানুষ অন্য রাজ্যে গেলে বিজেপির এত সমস্যা কেন?’ এই পর্বেই গেরুয়া শিবিরের প্রতি মমতার কটাক্ষ, ‘এসব করে যদি আপনারা ভাবেন, দিল্লির মতো এখানেও ক্ষমতা দখল করবেন, তাহলে বলব, সোমবার জনবিস্ফোরণ দেখেছেন। আরও অনেক কিছু দেখার বাকি আছে।’