


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন সাঁকরাইলের প্রবীণ বাসিন্দা প্রশান্ত পাত্র। সেখানে ন’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হন তিনি। আর নার্সিংহোমে থাকার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দেন চিকিৎসক। অভিযোগ, ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’র অজুহাতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতে অস্বীকার করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধের পরিবার লক্ষাধিক টাকার বিল মেটাতে অপারগ হওয়ায় প্রায় দেড় মাস তাঁকে নার্সিংহোমেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে বুধবার রাজ্যের ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশে নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পান প্রশান্তবাবু। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ প্রশান্ত পাত্র সাঁকরাইলের ঝোড়হাটের বাসিন্দা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আলমপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানায়, লক্ষাধিক টাকা বিল হয়েছে। রোগীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিল মিটিয়ে দিতে হবে। পরিবার তখন জানায়, রোগী ভর্তির সময়েই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এরপর নার্সিংহোম কখনও বলে লিঙ্ক নেই, কখনও বলে আধারের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড যুক্ত নেই। শুধু তাই নয়, বিল না মেটানো পর্যন্ত রোগীকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। ২৬ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক প্রশান্তবাবুকে ‘ছুটি’ লিখে দিলেও বিল না মেটানোয় তাঁকে আটকে রাখা হয়।
প্রশান্তবাবুর মেয়ে লাকি পাত্র বলেন, ‘প্রথমে স্থানীয় থানা এবং পুলিস কমিশনারের কাছে এনিয়ে অভিযোগ জানাই। এরপর রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হই।’ সূত্রের খবর, গত বুধবার ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনে বিষয়টি ওঠে। সেখানে নার্সিংহোমের চরম গাফিলতি প্রমাণিত হয়। কমিশনের তরফে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, টেকনিক্যাল সমস্যার কথা কেন স্বাস্থ্যসাথী সেলকে জানানো হয়নি? নার্সিংহোমকে তীব্র ভর্ৎসনাও করে কমিশন। নার্সিংহোমের বকেয়া বিল দ্রুত মেটানোর জন্য স্বাস্থ্যসাথী সেলকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই সঙ্গে ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হাওড়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছে তারা। রোগীকে সুরক্ষিতভাবে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় সাঁকরাইল থানার পুলিসকে। বুধবার বিকেলে ঘরে ফেরেন অশীতিপর প্রশান্তবাবু। তাঁর মেয়ে বলেন, ‘রাজ্য সরকারকে অনেক ধন্যবাদ।’