


ওয়াশিংটন: কড়া নিরাপত্তায় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। লেবাননের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে ইজরায়েলও। হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই এই বৈঠকের লক্ষ্য। কিন্তু এরইমাঝে ট্রাম্পের বক্তব্যে ফের শোরগোল শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফাঁড়া যেন কাটতেই চাইছে না। এবার ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজে শুল্ক নেওয়ার অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুংকার, তেহরান অত্যন্ত জঘন্য কাজ করছে। ভবিষ্যতে ইরান থাকুক বা না থাকুক হরমুজ প্রণালীতে কিন্তু তেল পরিবহণ চলবে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন একশোর বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করে গন্তব্যে রওনা দিত। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এপর্যন্ত হরমুজ অতিক্রম করেছে মাত্র ১২টি জাহাজ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অন্যতম বড় তেল সংস্থার প্রধান সুলতান আল জাবের জানিয়েছেন, এখনও প্রায় ২৩০টি তেল বোঝাই জাহাজ হরমুজে অপেক্ষা করছে। সমুদ্রপথে ইরানি সেনার মাইন পেতে রাখাকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের একাধিক সংবাদসংস্থায় হরমুজ প্রণালীর কিছু ‘ডেঞ্জার জোনে’র তালিকা প্রকাশ করেছে। জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে শুল্ক নেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘হরমুজ প্রণালীতে তেল পারাপারের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত জঘণ্য কাজ করেছে। এটি অত্যন্ত অপমানজনক। সমঝোতার সময় এমন কথা হয়নি। ইরানের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ অব্যাহত থাকবে। ওরা তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর টাকা নিচ্ছে। অবিলম্বে তা বন্ধ করা উচিত।’ বৈঠকের পূর্বে ট্রাম্পের এহেন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই যুদ্ধবিরতির চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। হরমুজকে সামনে রাখলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই যত সমস্যা। যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই তেহরানের পরমাণু পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য, ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ট্রাম্পের নজর রয়েছে তেহরানের ইউরেনিয়ামের উপরও। এরইমাঝে বৃহস্পতিবার ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের প্রধান মহম্মদ এসলামি জানিয়েছেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানের ইউরেনিয়াম রক্ষার অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই ভিন্ন দাবির মাঝেই ঝুলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সাফল্য।
জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে থাকতে পারেন পাক প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী।