


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৯০ বছর বা তারও বেশি বয়সের নাগরিক এবং চলতে ফিরতে অক্ষম প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা পৌঁছে দিতে নয়া উদ্যোগ নিল পঞ্চায়েত দপ্তর। দুয়ারে পেনশনের মতো এক্ষেত্রেও উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে মাসিক ভাতা বাবদ প্রাপ্য টাকা। তাঁদের আর কষ্ট করে আর যেতে হবে না ব্যাঙ্ক অথবা পোস্ট অফিসে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাস্ট মাইল সার্ভিস ডেলিভারি’। চলতি মাসের শেষ থেকেই রাজ্যজুড়ে চালু হয়ে যাবে এই পরিষেবা। প্রায় ৩০ হাজার উপভোক্তাকে এই পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা, ব্যাঙ্ক এজেন্ট, পোস্টাল পেমেন্ট ব্যাঙ্ক সার্ভিস ইত্যাদির মাধ্যমে এই টাকা তুলে দেওয়া হবে প্রবীণ মানুষের হাতে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ ছ’টি জেলায় এই পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছিল। তাতে ভালো সাড়া মিলেছে। এরপরই এই পরিষেবা গোটা রাজ্যে চালু করার উদ্যোগ নেন দপ্তরের আধিকারিকরা। সেই মতো জেলায় জেলায় এই ধরনের উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ হাজার উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়।
দপ্তর সূত্রের খবর, জেলায় জেলায় এমন অনেক প্রবীণ উপভোক্তা রয়েছেন, যাঁদের বাড়ি থেকে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস অনেকটা দূর। এতদিন অসুস্থতা বা বার্ধক্যজনিত সমস্যা থাকলেও অতি কষ্ট করে তাঁদের বার্ধক্য ভাতার টাকা তুলতে যেতে হতো। এমনও অনেকে আছেন, যাঁরা নিয়মিত সেখানে যেতেও পারেন না। তাই দপ্তর ঠিক করেছে, যেসব অসুস্থ বা অক্ষম উপভোক্তার বাড়ি থেকে নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস তিন কিলোমিটারের বেশি, তাঁদের কাছেই পৌঁছে যাবেন সরকারি প্রতিনিধি। টাকা তুলে দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কের যেসব নিয়ম রয়েছে, যেমন বায়োমেট্রিক, নথিপত্রে সই ইত্যাদি করিয়ে ওই টাকা তুলে দেওয়া হবে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বয়স বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে কেউ টাকা তুলতে যেতে না পারলেও যাতে সমস্যায় না পড়তে হয়, তার জন্যই এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। বহু মানুষ এতে উপকৃত হবেন।’