


শিশির ঘোষ: যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অঙ্কিত। কলারবোন ভেঙে দু’টুকরো। ওদিকে মাঠ জলে থইথই। স্ট্রেচারে শুইয়ে কোনোরকমে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয় তরুণ ফুটবলারকে। রবিবার গুয়াহাটিতে মোহন বাগান বনাম নর্থ ইস্ট ম্যাচে গুরুতর আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিটকে গেল অঙ্কিত। দায় কার? রেফারি ক্রিস্টাল জন দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। বল থমকাচ্ছে। পাস খেলার উপায় নেই। খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাও সমান দোষী। আসলে ভারতীয় ফুটবলকেও জলে ভাসাচ্ছে ফেডারেশন। ১৩ ম্যাচের লিগ। কোনোরকমে শেষ করাই লক্ষ্য। চুলোয় যাক ফুটবলার। কিন্তু এমন মাঠে ওয়াটারপোলো খেলা উচিত। বাঁশি হাতে ফুটবলকে ফাঁসিতে চড়ালেন রেফারি। এক ঘণ্টার উপর ম্যাচ বন্ধ। তাতে কী! ধানখেতের মতো মাঠে ফুটবল চলল। রোম যখন পুড়ছিল সম্রাট নিরো বেহালা বাজাচ্ছিলেন। ওদিকে ক্ষমতার অলিন্দে ঘুটি সাজাতে ব্যস্ত ফেডারেশন কর্তারা। কলকাতায় পাঁচতারা হোটেলে উন্নয়নের পরিকল্পনা সাজানোর বদলে আদ্যশ্রাদ্ধ করা উচিত। নর্থ ইস্ট কোচ পেড্রো বেনালি ম্যাচের পর তেড়ে গেলেন। তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু রেফারিকে শাস্তি দেবে কে?
শক্তির নিরিখে অনেক এগিয়ে মোহন বাগান। গুয়াহাটিতে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে শুরুতে রবসনের গোলে এগিয়েও যায় তারা। সমর্থকরা ধরে নিয়েছিলেন, বড় ব্যবধানে জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে পাসিং ফুটবলের দফারফা। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নিতেন কে? আসলে ফেডারেশন কর্তারা নিজেরাই বিভ্রান্ত। রেফারিংয়ের মানও নিম্নমুখী। যাই হোক, এতসবের মধ্যেও লোবেরা ব্রিগেডকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। তবে স্প্যানিশ কোচের কপাল ভালো, কোনো ফুটবলার চোট পায়নি। ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন তিনি। ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে কঠিন বাধা টপকালেন লোবেরা। আগামী ৯ মে ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার মুখোমুখি হবে মোহন বাগান। আমার বিশ্বাস, গোয়াকে টপকালেই লিগ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে কামিংস, রবসনরা। ছন্নছাড়া ভারতীয় ফুটবলে মোহন বাগানই তো সেরা বিজ্ঞাপন।