


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু। হাসপাতাল সেই আর জি কর। স্বাস্থ্য, পূর্ত সহ একাধিক দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ। ঘটনাটি যখন ঘটছে, তার কিছুদিন পর বিধানসভা নির্বাচন। শাসককে অস্বস্তিতে ফেলতে বিরোধীদের কাছে এর চেয়ে বড় ‘মাহেন্দ্রযোগ’ আছে? তাই শুক্রবার হাসপাতাল চত্বরে দেখা গেল, মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে রাজনীতিতে সিপিএম এবং বিজেপি—কেউ কারও থেকে কম যায় না! লিফট বিপর্যয়ে ৪০ বছরের যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী উপস্থিত হন হাসপাতালে। মৃতের বাড়ির লোকজন, ট্রমা সেন্টারে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়স্বজন, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি—সব মিলিয়ে হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার চত্বরে তখন থিকথিকে ভিড়। বাম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্ত বলেন, ‘অভয়া কাণ্ডের পর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা বলেছিল সরকার। কিছুই হয়নি।’ এখানকার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অতীন ঘোষের মন্তব্য টেনে কটাক্ষও ছুড়ে দেন তিনি। এই বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারিও চলে আসেন। তিনি বলেন, ‘যাঁদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাঁরাই বলছেন গাফিলতি হয়েছে। বুঝুন কাণ্ড!’ অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তথা বুচুর মৃত্যুতে যখন বন্ধুবান্ধবের চোখে জল, পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন, তখন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক বাইট দিয়ে যাচ্ছেন রাজনীতির কারবারীরা! এখানেই শেষ নয়, লিফট-কাণ্ড টেনে রাজনীতির রুটি সেঁকতে ছাড়লেন না বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। বলেন, ‘রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা আরও একবার প্রকট হল।’ লিফটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘টেকনো ফেইথ’ নামে এজেন্সির কাগজও তুলে ধরেন তিনি। সিপিএমের ডাক্তার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি এদিন মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখেছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে আর জি করের রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনও। নবান্ন সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বর্তমানে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন পূর্তসচিব অন্তরা আচার্য। সেখান থেকে তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘লিফটগুলি রক্ষণাবক্ষেণে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।’