


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে পরিকাঠামো খাতে যে খরচ হত, বর্তমানে তার ১১ গুণ বেশি খরচ করা হয়েছে। এরাজ্যে সদর্থক কিছু হচ্ছে বুঝেই বিশ্ব ব্যাংক বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি অর্থ সাহায্য করছে। বৃহস্পতিবার ভারত চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন শিল্পদপ্তরের দায়িত্বে থাকা প্রধান সচিব বন্দনা যাদব। এদিন তিনি বলেন, শুধু যে রাস্তাঘাট বা ব্রিজের মতো পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে তাই নয়, আলাদা করে আনা হয়েছে করিডর নীতি। পরিকাঠামোখাতে রাজ্য যে খরচ করেছে, তাতে যে শুধু বড়ো মাপের নগরায়ণ হয়েছে তাই নয়, সহজে ব্যবসা করার সুযোগও করে দিয়েছে এই পরিকাঠামো। পাশাপাশি রাজ্যে যে অর্থনৈতিক ও শিল্প করিডরগুলি তৈরি হচ্ছে, সেগুলির সঙ্গে শিল্পের সরাসরি সংযোগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, বর্তমানে যেভাবে বিশ্বে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তার থেকে রেহাই পেতে শিল্পায়ন জরুরি। সেক্ষেত্রে লজিস্টিকস বা পরিবহণ ও মজুতকরণের মতো পরিকাঠামো যত ভালো হবে, তা সেই রাজ্যকে তত বেশি সমৃদ্ধ করবে।
বন্দনা যাদব বলেন, যদি কোনো সংস্থা শিল্প গড়তে চায়, তাহলে তারা সরাসরি বিদ্যুৎ, জল, বর্জ্য নির্গমন ও প্রক্রিয়াকরণ, রাস্তা প্রভৃতি পরিকাঠামোগত সুযোগ পাবে। অর্থাৎ ঝঞ্জাটমুক্ত করে শিল্পের পথ মসৃণ করছে রাজ্য।
পাশাপাশি এদিন শিল্পসচিব দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশের প্রথম রাজ্য, যারা ফ্রি হোল্ড ল্যান্ড দিচ্ছে বা শিল্পের জমির পাকপাকি মালিকানার সুযোগ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের হাতে যে খাস জমি রয়েছে এগুলি যেমন শিল্পের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তেমনিই লং টার্ম সেটেলমেন্ট অনুযায়ী ফ্রি হোল্ড ল্যান্ড দেওয়া হচ্ছে। এদিন তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের ক্ষেত্রে জমির কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছে। এরাজ্যের বেশিরভাগ জমি উর্বর। তিন ফসলি জমিতে শিল্প কাম্য নয়। তাই সরকার তুলনামূলক অনুর্বর জমিকেই শিল্পের জন্য চিহ্নিত করেছে। এদিন বন্দনা যাদব দাবি করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো যেসব সামাজিক প্রকল্প রাজ্যে চলছে, এগুলো শিল্পক্ষেত্রেরও উপকার করছে। তার কারণ, রাজ্যে ক্রেতারা সংখ্যায় যে শুধু বেড়েছে তা নয়, গুণমানের বিচারেও ক্রেতারা অনেক বেশি এগিয়ে। অর্থাৎ ক্রেতাদের হাতে খরচ করার মতো অর্থ আছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত এবং নীরোগ মানুষ বা কর্মী রয়েছেন, যাঁরা শিল্পের জন্য উপযোগী। তার কারণ, শিল্পমহল সবসময় চায় কর্মঠ ও শিক্ষিত, দক্ষ কর্মী। সেই সুযোগ করে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
শিল্প প্রসঙ্গে রাজ্যের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গও এদিন আনেন বন্দনা যাদব। তাঁর কথায়, এরাজ্যে এমন একাধিক শিল্পপতি রয়েছেন, যাঁরা বাংলায় থেকে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে গেলেও ব্যক্তিগত পরিসরে রাজ্যের ভাবমূর্তি সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে থাকেন। শিল্পমহলের উচিত, এরাজ্যের ইতিবাচক দিকগুলিই তুলে ধরে প্রচার করা। তাতে বাইরের বিনিয়োগকারীরা অনেক বেশি স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারবেন। শিল্প নিয়ে সত্যিই যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে রাজ্য সরকার তা সমাধানের জন্য সবসময় চেষ্টা করে থাকে, দাবি করেন শিল্পসচিব।