


সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: এসআইআরের পর প্রথম পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর সেই তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়িয়েছে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের শালবাড়িতেও। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বোচামারি-তুফানগঞ্জ রাজ্য সড়কে নাগুরুরহাটে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সরব হন শালবাড়ি-১ নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ। এতে আটকে যায় বহু যানবাহন। এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে বক্সিরহাট থানার পুলিশ বাহিনী। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর আশ্বাস মিললে অবরোধ ওঠে।
বিক্ষোভকারী তথা আন্দোলনকারী মঞ্চের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকাশিত ভোটার তালিকায় আমাদের শালবাড়ি-১ পঞ্চায়েতে প্রায় ২০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯০০ জনের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও কেন এমন হল, নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চাইছি। আরএক বিক্ষোভকারী অঞ্জলি সাহা বলেন, আমার পূর্বপুরুষের জন্ম এখানেই। এসআইআরের শুনানিতে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও আমার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নজরে নিয়ে আসতেই অবরোধে শামিল হয়েছি।
অন্যদিকে, তুফানগঞ্জ-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শীতলচন্দ্র দাস বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে তাঁদের অধিকাংশেরই বৈধ নথি রয়েছে। বিষয়টি কমিশন খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, নাগরিক মঞ্চের আন্দোলন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি উজ্জ্বল কান্তি বসাকের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রথম থেকে বিভ্রান্ত করছে তৃণমূল। এদিন শাসকদলের নেতাদের মদতেই এই আন্দোলন হয়েছে। যদিও বিজেপির তোলা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের তুফানগঞ্জ-২ ব্লক সভাপতি নিরঞ্জন সরকার বলেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ভোটারের নাম বাতিলের চক্রান্তের বিরোধিতায় তৃণমূল প্রথম থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। এসআইআরের এই চক্রান্তের পিছনে যে বিজেপির মদত রয়েছে তা এখন দিনের আলোর মত স্পষ্ট। আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষ এর যোগ্য জবাব ইভিএমে দেবে।