


তিনি ‘ইন্ডাস্ট্রি’। নবাগত থেকে বিনোদন জগতের সকলের কাছে তিনি অভিভাবকসম। ‘বুম্বাদা’। আমজনতার, অনুরাগীদের কাছে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চলতি বছর পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হলেন অভিনেতা। রবিবার এই ঘোষণা হতেই উৎসবের আবহ টলিপাড়াজুড়ে। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত হল এ বছরের পদ্ম পুরস্কার। সেখানেই নাম রয়েছে প্রসেনজিতের। ইন্ডাস্ট্রিতে চার দশক কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। জার্নি শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে। ঝুলিতে সাড়ে তিনশোর বেশি ছবি। হিট, সুপারহিটের নানা ভাষ্য পেরিয়ে এত বছরের ঝোড়ো ইনিংস তাঁর। বাণিজ্যিক ছবি হোক বা আর্ট ফিল্ম... তিনি অলরাউন্ডার। যে কোনও ছবিতে দর্শককে মুগ্ধ করেন অবলীলায়। রোমান্টিক, অ্যাকশন থেকে সামাজিক, পারিবারিক, সবক্ষেত্রে তাঁর অবাধ যাতায়াত। সমস্ত চরিত্রেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য। ‘অমর সঙ্গী’র রোমান্টিক হিরো হোক বা ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর ভিলেন... তিনি অদ্বিতীয়। ‘দোসর’, ‘চোখের বালি’, ‘ছোটোবউ’, ‘চৌধুরী পরিবার’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘জাতিস্মর’, ‘দেবী চৌধুরানি’— অসংখ্য ছবিতে তাঁর অভিনয় চমকে দিয়েছে। বারবার নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন তিনি। এনার্জিই তাঁর ইউএসপি। মুম্বইয়েও তিনি সমান জনপ্রিয়। কাজ করেছেন একাধিক হিন্দি প্রজেক্টে। এর আগে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। এবার চলচ্চিত্র জগতে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পেলেন নায়ক। ‘এটা আমার একার প্রাপ্তি নয়। গত ৪০ বছর ধরে যে মানুষগুলি আমাকে নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের সকলের জন্য। তাঁরা না থাকলে আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হতে পারতাম না। বাংলা ভাষায় ছবি করেছি এত বছর ধরে... তাই সম্মান আরও বেশি গর্বিত করেছে আমাকে। মাকে ভীষণ মিস করছি এই বিশেষ দিনে’, বললেন নায়ক।
এদিন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। গত বছর নভেম্বরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী। অভিনয় জগতে তাঁর অবদানস্বরূপ এই সম্মান পেলেন ধর্মেন্দ্র। পদ্মভূষণ পেলেন গায়িকা অলকা ইয়াগনিক, দক্ষিণী অভিনেতা মামুট্টি, শিল্পী পিযূষ পাণ্ডে। পদ্মশ্রী পেয়েছেন অভিনেতা আর মাধবন, মরণোত্তর পদ্মশ্রী পেলেন সতীশ শাহ। শিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়, সন্তুর শিল্পী তরুণ ভট্টাচার্য, তবলা বাদক পণ্ডিত কুমার বসু পদ্ম পুরস্কার পেয়েছেন। প্রয়াত শিল্পী তথা নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কেও মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।