


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: প্রশাসনিক ছাড়পত্র মিলেছিল আগেই। পুজোর মুখে এদেশে ইলিশ পাঠাতে শুরু করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার রাতে সীমান্ত পেরিয়ে পেট্রাপোলে এসে পৌঁছায় ৮টি ট্রাক ভর্তি ৩৭.৪১ মেট্রিক টন ইলিশ। বুধবার সেগুলি এখানকার বিভিন্ন বাজারের বিক্রয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারই খোলা বাজারে তা চলে আসার কথা। এদেশে আসা মাছের ওজন এক থেকে দেড় কেজি। তবে দাম যে খুব একটা সস্তা হবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ, এবার মাছ রপ্তানির জন্য কেজি প্রতি ন্যূনতম দাম রাখা হয়েছে সাড়ে ১২ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ পরিবহণ খরচ এবং বিভিন্ন স্তরে লাভের অঙ্ক বাদ রেখেই ওপার বাংলার ইলিশের দাম কেজি পিছু এক হাজার টাকার বেশি। সেগুলি যোগ হলে, দাম যে মোটেই মধ্যবিত্তের লাগালে থাকবে না, তা অনুমেয়। প্রসঙ্গত, গতবার ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ছিল কেজি পিছু ১০ ডলার। ব্যবসায়ী ফিরোজ মণ্ডল বলেন, এদিন ৮টি ইলিশ বোঝাই গাড়ি এদেশে এসেছে। প্রতি গাড়িতে গড়ে ৪ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন বাজারে এই মাছ পাওয়া যাবে। ২০১২ সালে জল বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবাদে ভারতে ইলিশ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার। এর কয়েক বছর পর হাসিনা সরকার পুজোর মুখে এদেশে ইলিশ রপ্তানি করে। গতবছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ক্ষমতা দখল করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরই ওই দেশে ভারত বিরোধী আন্দোলনের জেরে দু-দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গতবছর বাংলাদেশ সরকার ২,৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। কিন্তু একমাস সময়সীমার মধ্যে এপারের মাছ ব্যবসায়ীরা মাত্র ৫৭৭ মেট্রিক টন মাছ আমদানি করতে পেরেছিলেন।
বাংলাদেশ সরকার মাছ রপ্তানিতে অনুমতি দিলেও মাছের প্রজনন সময়ের কথা ভেবে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ওদেশের রপ্তানিকারকরা মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই কারণে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এবছর পুজোর আগে ইলিশ আসায় খুশি মৎস্যপ্রেমীরা। এবছর বাংলাদেশ সরকার ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল দাস বলেন, পুজোর আগে বাংলাদেশের ইলিশ আসায় খুশি।-নিজস্ব চিত্র